• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম


জিলকদ মাসে ওমরাহর তাৎপর্য

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ৭:৩৪ এএম

এখন চলছে পবিত্র জিলকদ মাস—যে মাসটি হজের প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) হিজরতের পর মোট চারবার ওমরাহ পালন করেছেন এবং হাদিস অনুযায়ী তাঁর প্রায় সব ওমরাহই এই জিলকদ মাসে সম্পন্ন হয়েছে। এতে যেমন রয়েছে গভীর ধর্মীয় তাৎপর্য, তেমনি তৎকালীন সমাজের ভুল বিশ্বাস ভাঙার একটি বাস্তব শিক্ষা।

হাদিস বিশারদদের মতে, নবীজি (সা.)-এর ওমরাহ ছিল চারটি। প্রথমটি হুদাইবিয়ার ওমরাহ—ষষ্ঠ হিজরিতে তিনি ওমরার উদ্দেশ্যে রওনা হলেও মক্কার মুশরিকরা বাধা দিলে সেখানেই কোরবানি করে ইহরাম ত্যাগ করেন। দ্বিতীয়টি ‘ওমরাতুল কাজা’, যা হুদাইবিয়ার চুক্তির পর সপ্তম হিজরির জিলকদে তিনি সম্পন্ন করেন। তৃতীয়টি জিঈররানার ওমরাহ—হুনাইন যুদ্ধের পর গনিমতের মাল বণ্টন শেষে তিনি সেখান থেকে ইহরাম বেঁধে ওমরাহ করেন। চতুর্থটি ছিল বিদায় হজের সঙ্গে সম্পন্ন করা ওমরাহ, যা মূলত কিরান হজের অংশ ছিল।

হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি চারটি ওমরাহ করেছেন এবং হজের সঙ্গে করা একটি ছাড়া সবগুলোই জিলকদ মাসে। একইভাবে হজরত আয়েশা (রা.)-ও উল্লেখ করেছেন যে নবীজি (সা.) কেবল জিলকদ মাসেই ওমরাহ করতেন।

নবীজির ওমরাহ পালনের পদ্ধতিতেও ছিল গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা। তিনি সবসময় মক্কার বাইরে নির্ধারিত মিকাত থেকে ইহরাম বেঁধে ওমরাহ করতেন। মক্কায় অবস্থানকালে হারামের সীমানার বাইরে গিয়ে বারবার ওমরাহ করার কোনো সাধারণ প্রথা তিনি চালু করেননি। তবে বিশেষ কারণে হজরত আয়েশা (রা.)-কে তানয়িম থেকে ওমরাহ করার অনুমতি দিয়েছিলেন, যা সাধারণ নিয়ম নয় বরং ব্যতিক্রম।

জিলকদ মাসে ওমরাহ পালনের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দিকও ছিল। জাহেলি যুগে আরবরা বিশ্বাস করত, হজের মাসগুলোতে ওমরাহ করা বড় পাপ। নবীজি (সা.) বারবার জিলকদ মাসে ওমরাহ করে এই ভ্রান্ত ধারণা দূর করেন এবং প্রমাণ করেন যে আল্লাহর ইবাদতের জন্য কোনো সময় অশুভ নয়।

তাই জিলকদ মাসে ওমরাহ পালন শুধু একটি ইবাদতই নয়; এটি নবীজির সুন্নাহ অনুসরণের একটি বিশেষ সুযোগ। যারা এ সময়ে ওমরাহ পালন করেন, তারা একদিকে সুন্নাহর অনুসরণ করেন, অন্যদিকে ইবাদতের গভীর তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারেন।

ইলিয়াস মশহুদ: লেখক ও গবেষক