পৃথিবীতে মহান আল্লাহ তাআলার অসীম কুদরতের অন্যতম নিদর্শন সূর্য ও চন্দ্র। মানবজীবনের সঙ্গে এই দুই মহাজাগতিক সৃষ্টির সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। সূর্যের আলো পৃথিবীতে জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য, আর চাঁদের স্নিগ্ধ আলো রাতের অন্ধকারে মানুষকে পথ দেখায় এবং প্রকৃতিতে সৌন্দর্যের আবহ তৈরি করে।
আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত প্রাকৃতিক নিয়মের অংশ হলো সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ। চাঁদ যখন তার কক্ষপথে পরিভ্রমণের সময় পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে অবস্থান নেয়, তখন পৃথিবীর নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে কিছু সময়ের জন্য সূর্য আংশিক বা সম্পূর্ণ আড়াল হয়ে যায়। এই ঘটনাই সূর্যগ্রহণ।
ইসলামে সূর্যগ্রহণকে আল্লাহর কুদরতের অন্যতম নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণের সময় গভীরভাবে আল্লাহর স্মরণে মগ্ন হতেন। তিনি সাহাবায়ে কেরামকে সঙ্গে নিয়ে জামাতে বিশেষ নামাজ আদায় করতেন, বেশি বেশি দোয়া, জিকির ও ইস্তিগফার করতেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যখন তোমরা সূর্যগ্রহণ দেখবে, তখন আল্লাহর জিকির ও ইস্তিগফারে মশগুল হবে।” (সহিহ মুসলিম: ১৯৮৯)
হজরত আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে সূর্যগ্রহণ শুরু হলে তিনি দ্রুত মসজিদে গিয়ে সাহাবিদের নিয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করেন। গ্রহণ শেষ হওয়ার পর তিনি বলেন, “কারও মৃত্যু বা জন্মের কারণে সূর্যগ্রহণ কিংবা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তোমরা যখন তা দেখবে, তখন গ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নামাজ আদায় করবে এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করবে।” (সহিহ বুখারি: ৯৮৩)
পবিত্র কোরআনেও সূর্য ও চন্দ্রের কথা বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
“তিনিই সেই সত্তা, যিনি সূর্যকে কিরণোজ্জ্বল এবং চাঁদকে স্নিগ্ধ আলোকময় করেছেন।”
(সুরা ইউনুস: ৫)
আরও ইরশাদ হয়েছে,
“আর আমি সৃষ্টি করেছি একটি প্রজ্বলিত প্রদীপ।”
(সুরা আন-নাবা: ১৩)
অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন,
“আল্লাহ চাঁদকে স্থাপন করেছেন আলোরূপে এবং সূর্যকে করেছেন প্রদীপরূপে।”
(সুরা নূহ: ১৬)
এ ছাড়া মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন,
“আর তিনিই তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন রাত, দিন, সূর্য ও চাঁদকে এবং নক্ষত্ররাজিও তাঁরই নির্দেশে নিয়োজিত। নিশ্চয়ই এতে বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।”
(সুরা আন-নাহল: ১২)
সূর্যগ্রহণ মুসলমানদের জন্য কেবল একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা নয়; বরং এটি মহান আল্লাহর কুদরতের স্মারক। এ সময় বেশি বেশি আল্লাহর জিকির, ইস্তিগফার, দোয়া এবং সালাতুল কুসুফ (সূর্যগ্রহণের নামাজ) আদায়ের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করাই একজন মুমিনের করণীয়।
/এএসএফ