• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪৩ এএম


২০২৭ সালের হজে ব্যয় আরও ৪০-৪২ হাজার টাকা কমতে পারে: প্রতিমন্ত্রী

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩০ জুলাই ২০২৬ ৪:৩৭ পিএম

আগামী ২০২৭ সালের হজকে আরও সাশ্রয়ী করতে বিমান ভাড়া এবং সৌদি আরবে বিভিন্ন ফি কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে একজন হজযাত্রীর মোট ব্যয় অন্তত ৪০ থেকে ৪২ হাজার টাকা কমতে পারে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী ‘জাতীয় পর্যায়ে হজ ও ওমরা ফেয়ার ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনা থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী বছরের জন্য ব্যয় আরও কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তার মতে, শুধু বিমান ভাড়াই নয়, সৌদি আরবে আরোপিত বিভিন্ন চার্জ কমানো সম্ভব হলেও হজযাত্রীরা উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা পাবেন।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুনাফার হার কমিয়ে হজ ফ্লাইটের ভাড়া ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবে বিমানবন্দর কর ও ‘গাকা’ চার্জ বাবদ জনপ্রতি প্রায় ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এসব চার্জ কমানোর বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং এ বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া গেছে। আগামী সেপ্টেম্বর একটি কারিগরি দল এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিমান পরিচালনার প্রশাসনিক ব্যয় এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন চার্জ কমানো সম্ভব হলে শুধু এভিয়েশন খাত থেকেই একজন হজযাত্রী প্রায় ৪০ থেকে ৪২ হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, হজ প্যাকেজের মোট ব্যয় আরও কমাতে আবাসন ব্যয় হ্রাসে হজ এজেন্সিগুলোকেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। সেবার মান অক্ষুণ্ন রেখে সৌদি আরবে বাসস্থানের ভাড়া কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

হজ এজেন্সিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে সরকারও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, হাবের সদস্য এজেন্সিগুলোর প্রায় ৬২ কোটি টাকা বকেয়া দ্রুত পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা কার্যক্রম পরিচালনায় স্বস্তি পায়। পাশাপাশি ছোট-বড় সব এজেন্সি যেন সমান সুযোগ পায়, সে বিষয়েও নজর রাখা হবে।

তিনি আরও জানান, হজ ক্যাম্পে খাবারের মূল্য লাভবিহীন পর্যায়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে খাবারের মান বজায় রেখে ব্যয় কমানোর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। এছাড়া ‘নুসুক’ কার্ড এবং ‘রোড টু মক্কা’ প্রকল্প চালুর ফলে হজযাত্রীদের ভোগান্তিও অনেকাংশে কমেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে দরিদ্র মানুষের জন্য হজ আরও সহজলভ্য করতে যাকাত তহবিল ব্যবহার কিংবা সরাসরি সরকারি ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়েও সরকার চিন্তাভাবনা করছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে হজের ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনা সম্ভব হবে।

/এসএন