• ঢাকা
  • সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫০ পিএম


এনআইডি সংশোধনের চাপে ইসি, ৬ বছরে জমা পড়েছে প্রায় ৬৪ লাখ আবেদন

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২ আগস্ট ২০২৬ ৮:৪৭ পিএম

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের জন্য প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ আবেদন জমা পড়ছে নির্বাচন কমিশনে (ইসি)। গড়ে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার নাগরিক নাম, জন্মতারিখ, পিতা-মাতার নাম, ঠিকানাসহ বিভিন্ন তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়ায় অনেককে উপজেলা, জেলা, আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস এমনকি ঢাকার নির্বাচন ভবনেও বারবার যেতে হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২ আগস্ট পর্যন্ত এনআইডি সংশোধনের জন্য মোট ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার ৭৩০টি আবেদন জমা পড়েছে। ২০২০ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ছয় বছর সাত মাসে এসব আবেদন জমা হয়েছে। এ হিসাবে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৯ লাখ ৭০ হাজার, প্রতি মাসে ৮০ হাজারের বেশি এবং প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৭০০টি আবেদন জমা পড়েছে।

ইসির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মোট আবেদনের মধ্যে ৬২ লাখ ৩০ হাজার ৫৯২টি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে, যা মোট আবেদনের প্রায় ৯৮ শতাংশ। এর মধ্যে ৪০ লাখ ৬১ হাজার ১৪৬টি আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। অন্যদিকে বিভিন্ন কারণে ১২ লাখ ৯৫ হাজার ৪৫৪টি আবেদন বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। বর্তমানে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৮টি আবেদন বিভিন্ন পর্যায়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনলাইনে আবেদন গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির কারণে আগের তুলনায় দীর্ঘসূত্রতা কিছুটা কমেছে। তবে জন্মতারিখ, নাম, পিতা-মাতার নাম ও ঠিকানা সংশোধনের আবেদন এখনও সবচেয়ে বেশি আসে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এনআইডি সংশোধনের প্রায় ৬৫ শতাংশ আবেদন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার এখতিয়ারভুক্ত ‘ক’ ক্যাটাগরিতে জমা পড়ে। এই ক্যাটাগরিতে আবেদন সংখ্যা ৪১ লাখ ২৭ হাজার ৯৩৭টি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আবেদন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার অধীন ‘খ’ ক্যাটাগরিতে, যেখানে আবেদন জমা হয়েছে ১২ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪৬টি। এছাড়া আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার ‘গ’ ক্যাটাগরিতে ৬ লাখ ২ হাজার ৭১৭টি এবং মহাপরিচালকের ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪৮৮টি আবেদন জমা হয়েছে।

স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী, আবেদনগুলোর জটিলতা বিবেচনায় ক, ক-১, খ, খ-১, গ ও ঘ—এই ছয় ক্যাটাগরিতে আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়। বানান সংশোধন, পুরো নাম পরিবর্তন, জন্মতারিখ সংশোধন কিংবা ধর্ম পরিবর্তনের কারণে নাম পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো আলাদা আলাদা ক্যাটাগরিতে নিষ্পত্তি করা হয়।

ইসি জানিয়েছে, আবেদন বাতিল হলে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। প্রথমে সচিবের কাছে আপিল করা যায় এবং প্রয়োজন হলে পরবর্তীতে কমিশনের কাছেও পুনর্বিবেচনার আবেদন করা সম্ভব।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, অসৎ উদ্দেশ্যে অনেকেই তথ্য সংশোধনের আবেদন করেন। তাই প্রতিটি আবেদন যাচাই-বাছাই করেই নিষ্পত্তি করা হয়। তবে আগের তুলনায় এখন এনআইডি সংশোধন সেবা আরও দ্রুত দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করতে সম্প্রতি একটি কমিটিও গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন। সংশ্লিষ্টদের আশা, কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে নাগরিকদের ভোগান্তি আরও কমবে।

বর্তমানে দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৪৩ জন।

/এএসএফ