• ঢাকা
  • শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:০৩ এএম


মা/র্কিন শীর্ষ কর্মকর্তার ইনস্টাগ্রাম হ্যা/ক, ছড়ানো হলো ই/রানপন্থি প্রচারণা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২ জুন ২০২৬ ৯:৩৩ পিএম

মার্কিন স্পেস ফোর্স কর্মকর্তার ইনস্টাগ্রাম হ্যাক, চালানো হলো ইরানপন্থি প্রচারণা

মার্কিন স্পেস ফোর্সের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে সেখানে ইরানের পক্ষে ইতিবাচক প্রচারণা এবং যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন বার্তা প্রচার করেছে অজ্ঞাত হ্যাকাররা।

মঙ্গলবার (২ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার হ্যাকিংয়ের ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে একাধিক ভিডিও ও বার্তা প্রকাশ করা হয়। পোস্টগুলোর কিছুতে ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছিল।

সিএনএনের পর্যালোচনা করা একটি ভিডিওতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পরিচিত ব্যক্তিত্ব ‘হ্যানয় হান্না’র কণ্ঠস্বর ব্যবহার করা হয়। সেখানে মার্কিন সেনাদের উদ্দেশে বলা হয়, ‘ডুবন্ত জাহাজ ছেড়ে চলে যাও।’

ভিডিওটিতে ইরানের সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানির ছবিও ব্যবহার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর তিনি নিহত হন।

হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্টটির মালিক হলেন মার্কিন স্পেস ফোর্সের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার তালিকাভুক্ত সদস্য চিফ মাস্টার সার্জেন্ট জন বেন্টিভেনিয়া।

ঘটনার পর রোববার রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সহকর্মীদের সতর্ক করেন তিনি। জন বেন্টিভেনিয়া জানান, তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে আসা কোনো লিংকে যেন কেউ ক্লিক না করেন। একই সঙ্গে ওই অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিওগুলো না দেখা এবং শেয়ার না করার অনুরোধও জানান তিনি।

তিনি বলেন, “অ্যাকাউন্টটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার এবং দ্রুত সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট টিমগুলো কাজ করছে।”

স্পেস ফোর্সের এক মুখপাত্র হ্যাকিংয়ের ঘটনা নিশ্চিত করলেও কত সময় ধরে পোস্টগুলো অ্যাকাউন্টে ছিল কিংবা কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে স্পেস ফোর্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বোমা হামলা শুরু করলে স্পেস ফোর্স ‘নন-কাইনেটিক’ কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল করতে সহায়তা করে।

যুদ্ধ চলাকালে মার্কিন সামরিক নেতৃত্ব একাধিকবার সেনাসদস্যদের সতর্ক করে বলেছে, তাদের মোবাইল ফোন এবং অনলাইন অ্যাকাউন্ট শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী সেন্ট্রাল কমান্ড সম্প্রতি আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছে, বাণিজ্যিক লোকেশন ডেটা ব্যবহার করে মার্কিন সেনাদের ওপর নজরদারি বা তাদের লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টার বিষয়ে একাধিক হুমকির তথ্য পাওয়া গেছে।

এপ্রিলের শেষ দিকে মার্কিন মেরিন কোরের কয়েকজন সদস্য, বেসামরিক কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরাও সন্দেহভাজন ইরানি হ্যাকারদের কাছ থেকে হুমকিমূলক বার্তা পান।

সিএনএনের দেখা এমন একটি বার্তায় বলা হয়েছিল, “আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটগুলোর কাছে আপনাদের পরিচয় সম্পূর্ণ জানা আছে এবং আপনাদের প্রতিটি গতিবিধি আমাদের নজরদারিতে রয়েছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, জন বেন্টিভেনিয়ার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাকের এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান তথ্যযুদ্ধের সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

/এসএন