মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ইরানের কাছে ‘যুদ্ধবিরতি’ শব্দটির অর্থ ও ব্যাখ্যা ভিন্ন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি রসিকতার সুরে বলেন, তেহরানের কাছে যুদ্ধবিরতি বলতে বোঝায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কিছুটা ধীরগতিতে বা সীমিত মাত্রায় গুলি চালানো।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সাম্প্রতিক ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর সাংবাদিকরা যুদ্ধবিরতির সংজ্ঞা সম্পর্কে প্রশ্ন করলে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন।
হাস্যোজ্জ্বল মুখে তিনি বলেন, ‘ওটা বিশ্বের সম্পূর্ণ আলাদা একটি অংশ এবং ওই অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি মানেই হলো যখন আপনি কিছুটা পরিমিতভাবে গুলি চালাচ্ছেন, এটা খুব একটা খারাপ নয়।’
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অঞ্চলে যুদ্ধবিরতির অর্থ পৃথিবীর অন্য যেকোনো স্থানের তুলনায় অনেকটাই আলাদা। তবে একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও চলতি সপ্তাহান্তের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি বড় ধরনের স্থায়ী শান্তি চুক্তির বিষয়ে আলোচনায় বসতে পারে।
তবে তার এই বক্তব্য এবং সাম্প্রতিক অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক মিত্রদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও সমালোচনা ও সতর্কবার্তা আসছে।
মূলত ট্রাম্প প্রশাসন এই সংঘাতকে একটি স্বল্পমেয়াদি সামরিক অভিযান হিসেবে শুরু করলেও সময়ের সঙ্গে এটি দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল সংঘাতে পরিণত হয়েছে। প্রায় এক সপ্তাহ আগে মার্কিন ও ইরানি কূটনীতিকরা চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে একটি খসড়া চুক্তিতে সম্মত হয়েছিলেন।
তবে ওই চুক্তি কার্যকর করতে ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল। পরে তিনি খসড়া চুক্তিতে কিছু অনির্দিষ্ট পরিবর্তনের দাবি জানালে পুরো প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। অন্যদিকে, ইরানের কর্মকর্তারাও ট্রাম্পের নতুন শর্ত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান।
গত ৭ এপ্রিল মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর টানা ৩৮ দিনের বোমাবর্ষণের পর দুই পক্ষের মধ্যে ১৪ দিনের একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু চলতি সপ্তাহে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হওয়ায় সেই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি টিকে থাকা নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
/এসএন