• ঢাকা
  • সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম


‘উঠে দাঁড়ানো’ গাছ ঘিরে মানত ও মোমবাতি, সেই ‘অলৌকিক’ গাছ কে’টে ফেলল প্রশাসন

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৫ জুন ২০২৬ ৯:৪৭ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় ঝড়ে উপড়ে যাওয়ার পর পুনরায় সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়া একটি গাছকে ঘিরে এলাকায় কুসংস্কার ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। গাছটিকে কেন্দ্র করে মাজার নির্মাণের অপচেষ্টা ঠেকাতে শেষ পর্যন্ত সেটি অপসারণ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় গাছটি কেটে ফেলা হয়। প্রশাসনের ভাষ্য, গাছটিকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ছিল এবং সেখানে মাজারসদৃশ পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে একটি ঝড়ে মুন্সীবাড়ির পুকুরপাড়ে থাকা গাছটি উপড়ে পড়ে যায়। পরে গাছটির ডালপালা ও ওপরের অংশ কেটে ফেলা হয়। তবে প্রায় এক সপ্তাহ আগে অবশিষ্ট প্রায় ১৫ ফুট লম্বা কাণ্ডটি হঠাৎ করেই আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ গাছটি দেখতে ভিড় করতে শুরু করে। একপর্যায়ে কিছু ব্যক্তি গাছের গোড়ায় লাল কাপড় বেঁধে সেখানে মোমবাতি ও আগরবাতি জ্বালিয়ে মানত করা শুরু করেন। পাশাপাশি চারপাশে বিভিন্ন নিশানা টাঙিয়ে স্থানটিকে মাজারের আদলে রূপ দেওয়ার চেষ্টারও অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও সমাজকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হন। তাদের মতে, এটি কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়। বরং গাছের ওপরের অংশ কেটে ফেলার ফলে ভরকেন্দ্রের পরিবর্তন, শিকড়ের টান, মাটির স্থিতিস্থাপকতা এবং অভ্যন্তরীণ রসচাপের কারণে কাণ্ডটি পুনরায় সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে।

তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানান। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে শুক্রবার ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছটি অপসারণ করা হয়।

আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কফিল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, “গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। মালিকের সম্মতি নিয়েই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় এটি অপসারণ করা হয়েছে। গাছ বিক্রির অর্থ স্থানীয় কোনো মসজিদ বা মাদরাসায় অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে বলে মালিক জানিয়েছেন।”

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, প্রশাসনের এই পদক্ষেপের ফলে এলাকায় কুসংস্কারের বিস্তার এবং ভণ্ড মাজার গড়ে ওঠার আশঙ্কা অনেকটাই দূর হয়েছে।

/এসএন