ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলার মুখেও রাশিয়ার নীতি বা অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সম্প্রতি ইউক্রেন রাশিয়ার বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করার পর এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, কিয়েভ যত চেষ্টাই করুক না কেন, মস্কোকে দমাতে বা টলাতে পারবে না।
এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রেও নিজেদের অগ্রগতি ধরে রাখার দাবি করেছে রাশিয়া। মস্কোর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি পূর্ব ইউক্রেনের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর কস্তিয়ানতিনিভকা তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে ইউক্রেন যুদ্ধ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিছুটা আড়ালে চলে গেলেও, মাঠপর্যায়ে দুই পক্ষের সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।
বুধবার (৮ জুলাই) ক্রেমলিন থেকে ভার্চুয়ালি মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নিয়ে পুতিন বলেন, শত্রুরা জ্বালানি খাতে হামলা চালিয়ে রাশিয়ার অর্থনীতিকে ধ্বংস করতে চায়। তাদের ধারণা, এতে দেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে। তবে বাস্তবতা হলো, রাশিয়ার জ্বালানি ব্যবস্থা বিশ্বের সবচেয়ে সহনশীল ব্যবস্থাগুলোর একটি। এসব হামলা দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করতে পারবে না এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভয় সৃষ্টি করতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, শত্রুরা যে উদ্দেশ্য নিয়ে এসব হামলা চালাচ্ছে, সেই লক্ষ্য তারা কখনোই অর্জন করতে পারবে না।
এদিকে ক্রিমিয়ায় যাওয়ার পথে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হামলায় গত সপ্তাহেই ৩৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ২৭০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মস্কো। রাশিয়া এসব হামলাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।
তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তোমাদের প্যাট্রিয়ট তৈরির লাইসেন্স দেব। কীভাবে বানাতে হয় তা বুঝিয়ে দিলে তোমরা খুব দ্রুতই উৎপাদন শুরু করতে পারবে।”
প্যাট্রিয়ট বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত। এটি শত্রুপক্ষের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম। একটি পূর্ণাঙ্গ প্যাট্রিয়ট ব্যাটারির মূল্য প্রায় ১০০ কোটি ডলার। তবে এর উৎপাদন প্রক্রিয়া অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বছরে প্রায় ৬০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে।
সমর বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের জন্য এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়েছে। গত সপ্তাহেই রাজধানী কিয়েভে একাধিক হামলায় কয়েক ডজন মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
এর আগে ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করেছিল। ট্রাম্পের এই ঘোষণা সেই আবেদনের ইতিবাচক সাড়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।
/এসএন