• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৬ এএম


শাহবাগে লাগাতার অবস্থান

অক্টোবরে নয়, আগস্টেই যোগদান চান ১৪ হাজার ৩৮৪ সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষক

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২ আগস্ট ২০২৬ ৩:১২ পিএম

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা আগস্ট মাসের মধ্যেই যোগদান ও পদায়নের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন।

রোববার (২ আগস্ট) সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে জড়ো হয়ে দ্রুত যোগদান নিশ্চিত করার দাবিতে স্লোগান দেন। মন্ত্রণালয় থেকে নতুন যোগদানের তারিখ ঘোষণা করা হলেও তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

সকালে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে গিয়ে দেখা যায়, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শত শত শিক্ষক অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। তাদের দাবি, চূড়ান্ত ফল প্রকাশের দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনও কর্মস্থলে যোগ দিতে না পারায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

আন্দোলনকারীরা জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে এখনো তাদের বিদ্যালয়ে যোগদান সম্ভব হয়নি। তাই আগস্ট মাসের মধ্যেই যোগদান ও পদায়নের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দিতে হবে।

এর আগে শনিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষক নিয়োগ-সংক্রান্ত এক জরুরি ভার্চুয়াল সভা শেষে সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছিলেন, তদন্ত ও বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত বিলম্বের কারণে আগামী ২৯ অক্টোবর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শিক্ষকরা যোগদান করবেন।

পরে রোববার সকালে বিদ্যালয়-২ শাখার উপসচিব রাজীব কুমার সরকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে যোগদানের তারিখ এগিয়ে ১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে যথাসময়ে নিয়োগপত্র পাঠানোর কথাও জানানো হয়।

তবে মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। তাদের ভাষ্য, অক্টোবর পর্যন্ত আরও দুই মাস অপেক্ষা করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। দীর্ঘদিন ধরে বেকার থাকায় তারা তীব্র আর্থিক ও মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষকদের প্ল্যাটফর্মের নেতা দেবব্রত সরকার বলেন, আগস্টের মধ্যেই যোগদান ও পদায়নের সিদ্ধান্ত না এলে তাদের লাগাতার আন্দোলন চলবে। তবে মন্ত্রণালয় থেকে যৌক্তিক ও ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত এলে কর্মসূচি পুনর্বিবেচনা করা হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা বাদে দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়। কিন্তু সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে কর্মস্থলে যোগদান করতে না পারায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এসব সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষক।

/এসএন