• ঢাকা
  • শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:০৮ এএম


অর্থনৈতিক সংকট ও জনঅসন্তোষে মোদি সরকারের পতন হবে: রাহুল গান্ধী

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৪ মে ২০২৬ ১১:২২ পিএম

ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে আবারও কেন্দ্রীয় সরকারকে চাপে ফেলতে তৎপর হয়েছে কংগ্রেস। নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করার পাশাপাশি আগামী এক বছরের মধ্যেই নরেন্দ্র মোদি সরকারের পতন ঘটবে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।

রোববার (২৪ মে) পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে দেওয়া রাহুল গান্ধীর এসব বক্তব্য ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে রাহুল গান্ধী বলেন, যতদিন পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করছেন এবং প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হচ্ছে, ততদিন কংগ্রেস আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

এ সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হায়দরাবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি ভিডিও শেয়ার করেন। ভিডিওতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের স্লোগান দিতে দেখা যায়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধেও স্লোগান ওঠে।

রাহুল অভিযোগ করেন, লাখ লাখ তরুণ যখন নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাস্তায় নেমেছে, তখন প্রধানমন্ত্রী নীরব রয়েছেন। তিনি বলেন, ২২ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, অথচ সরকার সমস্যার সমাধানের পরিবর্তে দায় এড়ানোর পথ খুঁজছে।

শুধু প্রশ্নফাঁস ইস্যু নয়, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন কংগ্রেস নেতা। সংখ্যালঘু বিভাগের এক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, আগামী এক বছরের মধ্যেই মোদি সরকারের পতন ঘটবে।

রাহুল গান্ধীর ভাষ্য অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের সংকট, অর্থনৈতিক অসন্তোষ এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ বাড়ছে। তিনি মনে করেন, এসব কারণই কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানকে দুর্বল করে তুলছে।

রাহুলের এসব মন্তব্য ইতোমধ্যে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পর কংগ্রেস তুলনামূলকভাবে আরও আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে যুবসমাজ, চাকরিপ্রার্থী এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির অসন্তোষকে সামনে এনে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করছে দলটি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্ক বর্তমানে ভারতের শহুরে মধ্যবিত্ত ও শিক্ষার্থী সমাজে বড় ধরনের ক্ষোভ তৈরি করেছে। সেই জনমতকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর কৌশল নিয়েছে কংগ্রেস। একই সঙ্গে সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধী শিবিরে নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরির চেষ্টাও চলছে।

তবে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। যদিও দলটির কিছু নেতা দাবি করেছেন, জনসমর্থনের ঘাটতির কারণেই বিরোধীরা বিভিন্ন ইস্যুতে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েক মাসে নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং অর্থনৈতিক অসন্তোষ ভারতের রাজনীতিতে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। আর সেই রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন রাহুল গান্ধী।