ব্যাটে এআই চিপের গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন হাসিমুখেই
ক্রিকেট বিশ্বে এখন একটাই নাম—বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই ২২ গজে বোলারদের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তবে তার এই বিধ্বংসী ব্যাটিং দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে এক অদ্ভুত বিতর্ক: বৈভবের ব্যাটে কি কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই চিপ’ (AI Chip) লুকানো আছে?
অবশেষে এই বিচিত্র গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুলেছেন খোদ সূর্যবংশী নিজেই।
সম্প্রতি আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি রাজস্থান রয়্যালস তাদের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে সরাসরি তাকে প্রশ্ন করা হয় ব্যাটে এআই চিপ থাকার বিষয়টি নিয়ে। লাজুক হাসি হেসে বিহারের এই বিস্ময়বালক জবাব দেন:
“ভগবান লাগিয়ে দিয়েছেন! ওপর থেকেই তিনি বলে দিয়েছেন যে, তোমার ব্যাটে আমি কিছু একটা সেট করে দিচ্ছি। আমি শুধু সেটারই সঠিক ব্যবহার করছি।”
বৈভবের ব্যাটে ‘এআই চিপ’ থাকার তত্ত্বর শুরুটা হয়েছিল গত সপ্তাহে। হায়দরাবাদের বিপক্ষে মাত্র ৩৬ বলে এক বিধ্বংসী সেঞ্চুরি হাঁকান তিনি। তার এমন অতিমানবীয় ব্যাটিং দেখে পাকিস্তানি ক্রিকেট বিশ্লেষক ড. নোমান নিয়াজ রসিকতা করে বলেছিলেন, এই কিশোরের ব্যাট পরীক্ষা করা উচিত এবং তাকে ল্যাবে পাঠানো দরকার। যেভাবে ডোপ টেস্ট করা হয়, সেভাবেই তার ব্যাট পরীক্ষা করা দরকার কারণ তার ব্যাটিং ‘বাস্তবতার ঊর্ধ্বে’। এই মন্তব্য মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
বৈভবের ব্যাটিং যে কতটা অবিশ্বাস্য, তা নিচের পরিসংখ্যানটি দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যায়। ২০ বছর বয়স হওয়ার আগেই স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারার তালিকায় তিনি এখন শীর্ষে:
| ব্যাটারের নাম | ছক্কার সংখ্যা | বয়স (বর্তমান) |
| বৈভব সূর্যবংশী | ৯৯টি | ১৫ বছর |
| রহমানউল্লাহ গুরবাজ | ৯০টি | (অনূর্ধ্ব-২০ থাকাকালীন) |
| ডেভাল্ড ব্রেভিস | ৭৩টি | (অনূর্ধ্ব-২০ থাকাকালীন) |
বিস্ময়কর তথ্য: সূর্যবংশী ২০ বছরে পা রাখবেন ২০৩১ সালে! অর্থাৎ বাকিদের রেকর্ড ভাঙতে তার হাতে এখনও আরও ৫ বছর সময় আছে।
এবারের আইপিএলে সেঞ্চুরির পথে আরও একটি অনন্য কীর্তি গড়েছেন এই কিশোর। টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সবচেয়ে কম বলে (৪৭৩ বল) এবং সবচেয়ে কম বয়সে ১০০০ রান পূর্ণ করার মালিক এখন বৈভব সূর্যবংশী।
রাজস্থান রয়্যালসের এই নতুন তারকাকে নিয়ে এখন শুধু ভারত নয়, পুরো ক্রিকেট বিশ্বই বুঁদ হয়ে আছে। ব্যাটে চিপ থাক বা না থাক, বৈভবের কবজির জোরে যে বোলারদের রাতের ঘুম হারাম হচ্ছে—তাতে কোনো সন্দেহ নেই।