• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম


‘এক বছর গরু-মহিষ কোরবানি বন্ধ রাখুন’ উগ্রবাদীদের জবাব দিতে কৌশল বদলের আহ্বান মাওলানা জাফর পাশার

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৩ মে ২০২৬ ১১:৪৯ পিএম

ভারতে কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে গরু ও মহিষ কোরবানি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন হায়দ্রাবাদের ইসলামিক স্কলার মাওলানা মোহাম্মদ জাফর পাশা। তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের উদাহরণ টেনে দাবি করেছেন, উগ্রবাদীদের জবাব দিতে কৌশলগতভাবে গরু ও মহিষ কোরবানি থেকে বিরত থাকা উচিত।

জাফর পাশা বলেন, “মুসলিমদের পশ্চিমবঙ্গ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। যদি এক বছরের জন্য গরু ও মহিষ কেনা বন্ধ রাখা হয়, তাহলে যারা এসব প্রাণীর কোরবানির বিরোধিতা করে তারা বড় ধরনের শিক্ষা পাবে। মুসলিমদের তাদের শিক্ষা দেওয়া উচিত।”

তিনি অভিযোগ করেন, হায়দ্রাবাদে যেসব মুসলিম গরু ও মহিষ কিনছেন, তাদের বিভিন্নভাবে হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। এমনকি গোরক্ষকদের বিরুদ্ধে কোরবানির পশু ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।

মাওলানা জাফর পাশা বলেন, “রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যদি কঠোর ব্যবস্থা নেন, তাহলে কেউ মুসলিমদের কাছ থেকে কোরবানির পশু ছিনিয়ে নেওয়ার সাহস পাবে না।”

তিনি আরও বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বসানো চেকপয়েন্ট দ্রুত তুলে নেওয়া উচিত। তার দাবি, প্রশাসন একদিকে মুসলিমদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে গোরক্ষকদের বাড়াবাড়ি করার সুযোগ দিচ্ছে।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসা হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার অনুমতি ছাড়া গরু ও মহিষ জবাইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অনেকের ধারণা, ঈদের আগে মুসলিমদের গরু কোরবানি সীমিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের অনেক মুসলিম সংঘাত এড়িয়ে বিকল্প পথে হাঁটছেন। তারা গরু ও মহিষের পরিবর্তে ছাগলসহ অন্যান্য হালাল পশু কোরবানির দিকে ঝুঁকছেন।

এর প্রভাব স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ওপরও পড়েছে। বিশেষ করে যেসব খামারি ও ব্যবসায়ী ঈদের সময় মুসলিমদের কাছে গরু বিক্রির ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, তাদের বড় একটি অংশ এখন আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, এসব ব্যবসায়ীর অনেকেই হিন্দু ধর্মাবলম্বী।

/এসএন