• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম


‘গরু কো’রবানি ঈদুল আজহার বাধ্যতামূলক অংশ নয়’—কলকাতা হাইকোর্ট

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৩ মে ২০২৬ ৬:৫৩ পিএম

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গে ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর ও মহিষ জবাইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছেন কলকাতা হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, গরু কোরবানি ঈদুল আজহার বাধ্যতামূলক অংশ নয় এবং ইসলামে এটি ধর্মীয়ভাবে আবশ্যিকও নয়।

শুক্রবার (২২ মে) দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রধান বিচারপতি সুজয় পল এবং বিচারপতি পার্থ সারথী সেন-এর বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

এর আগে একাধিক জনস্বার্থ মামলায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আদেশ বাতিল এবং অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন আবেদনকারীরা।

মূলত ১৯৫০ সালের পশ্চিমবঙ্গ পশু কুরবানি নিয়ন্ত্রণ আইনের ১২ নম্বর ধারার ব্যাখ্যা নিয়ে আদালতে শুনানি হয়। ওই ধারায় ধর্মীয়, ওষুধ বা গবেষণার প্রয়োজনে নিষিদ্ধ পশু কোরবানির অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা সরকারের আছে কি না, সে বিষয়ে রাজ্য সরকারকে ২৪ ঘণ্টার সময় দিয়েছিল আদালত।

তবে বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পল ও বিচারপতি পার্থ সারথী সেনের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ১৩ মে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকৃতি জানান।

আদালত বলেন, ২০২৬ সালের ১৩ মে জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তি মূলত ২০১৮ সালে হাইকোর্টের দেওয়া আগের নির্দেশনার বাস্তবায়ন। ফলে এটি স্থগিত বা বাতিল করার কোনো ভিত্তি নেই।

রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর ও মহিষকে ‘নাজুক’ হিসেবে ঘোষণা ও সনদপত্র ছাড়া জবাই করা যাবে না।

এ বিষয়ে আইনের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা মামলায় জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য যুক্তি দেন, আইনটি মূলত কলকাতা ও অন্যান্য পৌরসভার জন্য তৈরি হয়েছিল, পুরো পশ্চিমবঙ্গের জন্য নয়। তবে আদালত এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি।

কলকাতা পৌরসংস্থার আইনজীবী নীলোৎপল চ্যাটার্জি আদালতকে জানান, তাদের কাছে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোসহ জবাইখানা রয়েছে এবং সনদ দেওয়ার জন্য নির্ধারিত কর্মকর্তাও আছেন।

আদালত বলেন, সনদ প্রদানের সঠিক ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা তদারকির দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। কোনো ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত সমাধানেরও আশা প্রকাশ করেন বিচারকরা।

/এসএন