• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ১০:৩০ পিএম


পরিবার বিয়ে না দেওয়ায় পুলিশের দ্বারস্থ তরুণী, পুলিশের কাছে পাত্র খুঁজে দেওয়ার অনুরোধ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৮ মে ২০২৬ ৬:০০ পিএম

পরিবার তার বিয়ে দিতে রাজি নয়, বরং সম্পত্তির লোভে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করছে—এমন অভিযোগ তুলে পুলিশের শরণাপন্ন হয়েছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের সরাই ইনায়ত এলাকার বাসিন্দা মাধুরী প্যাটেল।

তবে তার অভিযোগের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো, তিনি পুলিশের কাছে নিজের জন্য একজন উপযুক্ত পাত্র খুঁজে দিয়ে সম্মানের সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করার আবেদন জানিয়েছেন।

মাধুরী প্যাটেলের অভিযোগ, তার পরিবারের সদস্যরা ইচ্ছাকৃতভাবে তার বিয়ে বিলম্বিত করছেন। বিয়ের খরচ এড়াতেই এমনটি করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি। পুলিশের কাছে জমা দেওয়া লিখিত আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, তার জন্য আসা একাধিক বিয়ের প্রস্তাব তার ভাই ও দুলাভাই নানা অজুহাতে ফিরিয়ে দিয়েছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার ভাই কৌশলে পৈতৃক সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিয়েছেন। এরপর থেকেই বোনের বিয়ের দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন তিনি।

মাধুরীর দাবি, গত ২০ বছর ধরে তিনি একাই বসবাস করছেন। নিজের যাবতীয় খরচও নিজেকেই বহন করতে হচ্ছে। তারপরও পরিবারের সদস্যরা তার ওপর নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করছেন। এমনকি মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি শারীরিকভাবেও নিগৃহীত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

আবেদনে তিনি তার বাবা, মা, ভাই এবং দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ এনেছেন।

পুলিশ প্রশাসনের কাছে মাধুরী প্যাটেল অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন তারা তার জন্য একজন ভালো পাত্রের সন্ধান করেন এবং যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে তার বিয়ের ব্যবস্থা করে দেন। তিনি জানিয়েছেন, আর একাকী ও অপমানজনক জীবন কাটাতে চান না।

এই ব্যতিক্রমী এবং একই সঙ্গে হৃদয়বিদারক অভিযোগ সামনে আসার পর স্থানীয় পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। মাধুরীর পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং তদন্তে প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিবারের অসহযোগিতার কারণে এক তরুণীর পুলিশের কাছে বিয়ের দাবি জানানোকে ভারতের সামাজিক ও আইনি প্রেক্ষাপটে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখছেন অনেকে।

/এসএন