• ঢাকা
  • শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৫৫ এএম


অবৈধ অভিবাসী ফেরাতে বাংলাদেশের সহযোগিতা চায় নয়াদিল্লি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৭ মে ২০২৬ ৯:৪৪ পিএম

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে জোরপূর্বক লোক পাঠানো বা ‘পুশব্যাক’ নিয়ে যে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভারতে অবস্থানরত অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করেই এসব মন্তব্যকে বিবেচনা করা উচিত। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কাজ দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

এদিন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, গত কয়েক দিনে সীমান্ত ও ‘পুশব্যাক’ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য তাদের নজরে এসেছে। তবে মূল বিষয় হলো—ভারতে অবস্থানরত অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রত্যাবাসন। এই প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রণধীর জয়সওয়াল জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের কাছে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ২ হাজার ৮৬০টির বেশি মামলা ঝুলে আছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব আবেদনের মধ্যে অনেকগুলো পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন, নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কাজ দ্রুত শেষ করা গেলে অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াও আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল হবে।

এর আগে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সীমান্তে সম্ভাব্য ‘পুশব্যাক’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। বুধবার (৬ মে) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা করেন না। তবে সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানও মন্তব্য করেন। বিএনপির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বক্তব্যে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যদি সীমান্তে ‘পুশ ইন’ বা জোরপূর্বক লোক ঢোকানোর ঘটনা ঘটে, তাহলে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে সামনে আনে। দলটির অভিযোগ ছিল, তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশে প্রশ্রয় দিচ্ছে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।

এদিকে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন প্রসঙ্গেও কথা বলেন রণধীর জয়সওয়াল। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে এবং এসব নদী-সংক্রান্ত সব বিষয়ে আলোচনা করার জন্য দুই দেশের মধ্যে সুসংগঠিত দ্বিপক্ষীয় কাঠামো বিদ্যমান।

তিনি আরও জানান, পানিবণ্টন ও নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিদ্যমান যৌথ প্রক্রিয়াগুলোর আওতায় নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে তিস্তা চুক্তি নিয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি বা নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

/এসএন