• ঢাকা
  • সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম


ভারতকে ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ আখ্যা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৭ মে ২০২৬ ৮:৪৮ পিএম

ভারতের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর ভাষায় মন্তব্য করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। দেশটির সেনাবাহিনীর মিডিয়া শাখা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)-এর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী ভারতকে ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, “সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী তোমরাই। কেউ তোমাদের কথা শোনে না, কেউ বিশ্বাসও করে না।”

বৃহস্পতিবার (৭ মে) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডন–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

‘মারকা-ই-হক’-এর এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের বিরুদ্ধে এসব মন্তব্য করেন আহমেদ শরিফ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তান নৌবাহিনীর উপপ্রধান (অপারেশনস) রিয়ার অ্যাডমিরাল শাফাআত আলী এবং বিমানবাহিনীর উপপ্রধান (প্রকল্প) এয়ার ভাইস মার্শাল তারিক গাজী।

গত বছরের ২২ এপ্রিল পেহেলগাম হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল এবং পাকিস্তানের ‘অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস’ ও ১০ মে যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে যার সমাপ্তি ঘটে, পাকিস্তান সেই ঘটনাপ্রবাহকে ‘মারকা-ই-হক’ বা ‘সত্যের যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করে থাকে।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে আইএসপিআর প্রধান দেশবাসীকে ‘মারকা-ই-হক’-এর এক বছর পূর্তির শুভেচ্ছা জানান। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করেছে এবং বহুমাত্রিক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে শত্রুকে পরাজিত করেছে।

তিনি বলেন, “আজ আমরা কী হয়েছিল তা নিয়ে খুব বেশি কথা বলব না। বরং ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত সময় নিয়ে বেশি আলোচনা করব।” একই সঙ্গে তিনি জানান, এই সংঘাতের “কৌশলগত পরিণতি” তুলে ধরা হবে।

আহমেদ শরিফ চৌধুরীর দাবি, ‘মারকা-ই-হক’-এর ১০টি কৌশলগত ফলাফল রয়েছে। তার মতে, প্রথম ফলাফল হলো— পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের উৎস হিসেবে তুলে ধরার ভারতীয় বয়ান “সমাধিস্থ” হয়ে গেছে। তিনি বলেন, কোনো প্রমাণ ছাড়াই পাকিস্তানকে ভারতে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।

পেহেলগাম হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, “প্রমাণ কোথায়?” এরপর তিনি বলেন, “কেউ এটা বিশ্বাস করে না। সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী তোমরাই। কেউ তাদের কথা শোনে না, কেউ বিশ্বাসও করে না।”

তিনি আরও দাবি করেন, দ্বিতীয় কৌশলগত ফলাফল হলো— পুরো অঞ্চলে পাকিস্তান “নিরাপত্তা স্থিতিশীলতার প্রধান শক্তি” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তার ভাষায়, “এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা দূত হলো পাকিস্তান এবং পাকিস্তানের বর্তমান নেতৃত্ব।”

তৃতীয় কৌশলগত পরিণতির প্রসঙ্গে তিনি ভারতের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ভারতে “সামরিক নেতৃত্বের রাজনীতিকরণ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের সামরিকীকরণ” ঘটেছে। তার মতে, ভারতীয় সামরিক বাহিনী আগে পেশাদার ছিল, কিন্তু বর্তমানে তা রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে পড়ে গেছে।

তিনি আরও মন্তব্য করেন, ভারতীয় রাজনীতিকদের বক্তব্য দেখে মনে হয় তারা “যুদ্ধবাজ” মানসিকতা ধারণ করেন। তার মতে, রাজনীতির সামরিকীকরণ এবং সামরিক বাহিনীর রাজনীতিকরণ অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতা।

আইএসপিআর প্রধান দাবি করেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যার মধ্যে সংখ্যালঘু ও কাশ্মীরিদের দমন-পীড়ন অন্যতম। তার ভাষায়, “এটি এক ধরনের ভ্রান্ত শ্রেষ্ঠত্ববোধ ও অহংকার থেকে আসে।” তিনি অভিযোগ করেন, নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলা না করে ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ তোলে।

কাশ্মীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কাশ্মীর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল। এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয় যে সেখানে জনসংখ্যার চিত্র বদলে দেওয়া হবে।”

এ সময় তিনি আবারও অভিযোগ করেন, ভারত পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মদদ দিচ্ছে। এমনকি নিজেদের দেশের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায়ও অন্যদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষায়, “‘মারকা-ই-হক’-এর পর বিশ্ব এখন বুঝতে পেরেছে ভারত কীভাবে এসব ভণ্ডামিপূর্ণ কাজ করে।”

পঞ্চম কৌশলগত পরিণতি হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, “ভারতীয় গণমাধ্যমের আসল চেহারা এবং তাদের তথ্যযুদ্ধের ব্যর্থতা” প্রকাশ পেয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের বিভিন্ন তথ্যও তুলে ধরা হয়। তিনি দাবি করেন, ‘মারকা-ই-হক’-এর পর পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা বেড়ে গিয়েছিল। পরে অক্টোবর মাসে পাকিস্তান প্রতিবেশী আফগানিস্তানে সন্ত্রাসী অবকাঠামোর বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। এরপর হামলার সংখ্যা কমে আসে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের পেছনে ভারতের ভূমিকা রয়েছে এবং আফগানিস্তানকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তার ভাষায়, “‘মারকা-ই-হকে শিক্ষা পাওয়ার পর ভারত কাকে ফোন করেছিল, দেখেছেন? আফগান তালেবান সরকারের তথাকথিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে।”

/এসএন