• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০২ পিএম


আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করেই ইরান থেকে তেল কিনছে চীন

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২ মে ২০২৬ ১১:৪৪ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানি তেল কেনার অভিযোগে চীনের পাঁচটি তেল শোধনাগারের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তা কার্যকর হওয়া ঠেকাতে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। বেইজিং একটি বিশেষ আইনি নির্দেশনা (ইনজেকশন) জারি করে এসব নিষেধাজ্ঞার বাস্তবায়ন ঠেকানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

শনিবার (২ মে) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, যা প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া

চীনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তা আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বেইজিংয়ের মতে, সার্বভৌম একটি দেশের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যে পাঁচটি শোধনাগারের কথা উল্লেখ করেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল (ডালিয়ান) রিফাইনারি, শানডং জিনচেং পেট্রোকেমিক্যাল গ্রুপ, হেবেই সিনহাই কেমিক্যাল গ্রুপ, শৌগুয়াং লুচিং পেট্রোকেমিক্যাল এবং শানডং শেংক্সিং কেমিক্যাল। এসব প্রতিষ্ঠান মূলত তথাকথিত ‘টি-পট’ বা স্বাধীন শোধনাগার হিসেবে পরিচিত।

এর আগে গত এপ্রিল মাসে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ হেংলি পেট্রোকেমিক্যালের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। অভিযোগ ছিল, তারা ইরান থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। এছাড়া সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রশাসন আগেই তালিকাভুক্ত বাকি চারটি শোধনাগারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশলকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যে এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

তারা আরও মনে করছেন, এই আইনি সুরক্ষার ফলে মার্কিন ডলারনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে ইরানি তেলের বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে। এতে ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা নীতির কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

চীন দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের অন্যতম বড় জ্বালানি আমদানিকারক। যদিও পেন্টাগনসহ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দাবি করে আসছে, চীনের এই তেল আমদানি ইরানের অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে বেইজিং স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনকে পাশ কাটিয়ে আরোপিত কোনো নিষেধাজ্ঞা তারা মানতে বাধ্য নয়।

এ ঘটনার জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।