• ঢাকা
  • সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম


হরমুজ প্রণালীতে ইরানকে টোল দিতে অস্বীকৃতি জানাল ৬ দেশ!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ৯:৫৯ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী ব্যবহার নিয়ে ইরানের আরোপিত টোল বা ফি’র প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে উপসাগরীয় ছয়টি দেশ। দেশগুলো হলো— সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন এবং ওমান।

এই দেশগুলো আঞ্চলিক জোট গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল-এর সদস্য। মঙ্গলবার সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত জিসিসির বৈঠক শেষে সংস্থাটির মহাসচিব জাসেম মোহামেদ আলবুদাইউই এক বিবৃতিতে এ অবস্থান তুলে ধরেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ইরানের টোল আদায় আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং ‘অবৈধ’। জিসিসি সদস্য রাষ্ট্রগুলো এ ধরনের পদক্ষেপ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে বলেও জানানো হয়।

বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ?

আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্তকারী প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নৌপথ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য করিডর। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়েই সরবরাহ করা হয়। ফলে এই প্রণালিকে ঘিরে যেকোনো উত্তেজনা বিশ্ববাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

ইরানের নতুন শর্ত ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপট

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল-এর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর এক পর্যায়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় তেহরান। পরে ইরান ঘোষণা দেয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজ দেখলেই হামলা চালানো হবে।

পরবর্তীতে শর্ত শিথিল করে ইরান জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে, তবে এজন্য ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের অনুমতি নিতে হবে এবং প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার হারে টোল দিতে হবে।

তবে জিসিসির সর্বশেষ বৈঠকে এই শর্তকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে সদস্য দেশগুলো।

সম্ভাব্য প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিরোধ দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে তেল সরবরাহ ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।