ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত বেশি বয়সী শিশুদের ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন এ ঘোষণা দেন।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের বৈশ্বিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইইউজুড়ে অভিন্ন নিয়ম চালুর পথে এগোচ্ছে জোটটি। এরই মধ্যে ইইউর কয়েকটি সদস্যদেশ কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করে।
ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে উরসুলা ফন ডার লেয়েন বলেন, ১৩ বছরের কম বয়সে কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা যাবে না। আর ১৫ বছরের কম বয়সে কোনো ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট রাখা যাবে না।
তবে ১৩ ও ১৪ বছর বয়সীদের জন্য ইইউতে ‘মিনি অ্যাকাউন্ট’ ব্যবহারের সুযোগ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিভাবকের তত্ত্বাবধান থাকবে এবং এর সুবিধাগুলোও সীমিত রাখা হবে। মিনি অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের সময়সীমা দিনে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা নির্ধারণের প্রস্তাবও রয়েছে।
ফন ডার লেয়েন জানান, শিশুদের সুরক্ষায় ইউরোপীয় কমিশন বৃহস্পতিবার নতুন ‘কিডস অ্যাক্ট’ প্রস্তাব করবে। প্রস্তাবিত আইনের আওতায় দায় প্রমাণের দায়িত্বের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হবে।
তিনি বলেন, অনেকেই মনে করেন বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ক্ষমতা এতটাই ব্যাপক যে তাদের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনা অসম্ভব। তবে তিনি এ ধারণার সঙ্গে একমত নন।
ইউরোপীয় কমিশনের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সভিত্তিক অভিন্ন বিধিনিষেধ চালুর পথ তৈরি হতে পারে।
/এএসএফ