• ঢাকা
  • বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩০ পিএম


রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিপর্যয়, স্বাভাবিক হতে লাগতে পারে আরও ৩-৪ দিন

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৪৩ পিএম

বাগেরহাটের রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিট বন্ধ থাকায় কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর প্রভাব পড়েছে জাতীয় গ্রিডেও। ফলে স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় গ্রিডে লোডশেডিং বেড়েছে।

যান্ত্রিক ও কারিগরি জটিলতার কারণে ২ নম্বর ইউনিটটি বন্ধ করা হয়েছে। ত্রুটি নিরসনে ভারত থেকে দুইজন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আসার কথা থাকলেও বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল পর্যন্ত তারা এসে পৌঁছাননি। তাদের আসতে আরও দুই-এক দিন সময় লাগতে পারে। এ কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ভারত-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই মেগা বিদ্যুৎকেন্দ্রে পর্যাপ্ত কয়লার মজুত রয়েছে। কেন্দ্রটি থেকে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। তবে গত রোববার সকালে হঠাৎ বয়লার অতিরিক্ত গরম হওয়া ও অভ্যন্তরীণ কারিগরি ত্রুটির কারণে ২ নম্বর ইউনিটটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এর ফলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট থেকে কমে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে।

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম জানান, ভারতীয় বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা এসে পৌঁছালে বয়লারের মেরামতের কাজ সম্পন্ন করা হবে। তবে এরই মধ্যে দেশীয় প্রকৌশলীরা বয়লারের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছেন। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি শতভাগ চালু করে উৎপাদন স্বাভাবিক করতে আরও অন্তত তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিটটি বর্তমানে ‘কুল ডাউন’ বা ঠান্ডা করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন হঠাৎ কমে যাওয়ায় পুরো খুলনা অঞ্চলে লোডশেডিং বেড়েছে। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের জনজীবনে ভোগান্তি আরও বেড়েছে। দ্রুত মেরামতের কাজ শেষ করে ২ নম্বর ইউনিটটি পূর্ণ উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা।

ওজোপাডিকোর বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর ১টায় ওজোপাডিকোর আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৮০৭ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ৬২৯ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং ছিল ১২৯ মেগাওয়াট।

এর মধ্যে খুলনা জোনে ৬১৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৪৯৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। ফলে সেখানে লোডশেডিং ছিল ১২৪ মেগাওয়াট। বরিশাল জোনে চাহিদা ছিল ১৮৯ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ করা হয় ১৩৫ মেগাওয়াট। সেখানে লোডশেডিং ছিল ৫৪ মেগাওয়াট।

বুধবার দুপুর ১টার হিসাবে খুলনায় ৫৬ মেগাওয়াট, মাগুরায় ৮ মেগাওয়াট, কুষ্টিয়ায় ১৩ মেগাওয়াট, ঝিনাইদহে ১১ মেগাওয়াট, চুয়াডাঙ্গায় ৬ মেগাওয়াট, ফরিদপুরে ৬ মেগাওয়াট, রাজবাড়ীতে ১২ মেগাওয়াট, মাদারীপুরে ৬ মেগাওয়াট, শরীয়তপুরে ২ মেগাওয়াট এবং গোপালগঞ্জে ৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল।

এ ছাড়া বরিশালে ৩১ মেগাওয়াট, ঝালকাঠিতে ৫ মেগাওয়াট, পিরোজপুরে ৩ মেগাওয়াট, পটুয়াখালীতে ৬ মেগাওয়াট, বরগুনায় ৩ মেগাওয়াট এবং ভোলায় ৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল।

এর আগের দিন মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় ওজোপাডিকোর আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৭৪৭ মেগাওয়াট। তখন সরবরাহ ছিল ৭১৭ মেগাওয়াট এবং লোডশেডিং ছিল ৩০ মেগাওয়াট।

ওই সময়ে খুলনা জোনে ৫৮০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৫৫৪ মেগাওয়াট সরবরাহ করা হয়। ফলে লোডশেডিং ছিল ২৬ মেগাওয়াট। বরিশাল জোনে ১৬৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১৬৩ মেগাওয়াট সরবরাহ করা হয় এবং সেখানে লোডশেডিং ছিল ৪ মেগাওয়াট।

মঙ্গলবার সন্ধ্যার হিসাবে মাগুরায় ৪ মেগাওয়াট, নড়াইলে ১ মেগাওয়াট, ফরিদপুরে ৬ মেগাওয়াট, রাজবাড়ীতে ১০ মেগাওয়াট, মাদারীপুরে ৩ মেগাওয়াট, শরীয়তপুরে ২ মেগাওয়াট, পটুয়াখালীতে ২ মেগাওয়াট এবং ভোলায় ২ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল।

/এএসএফ