মঞ্চে ফিলিস্তিনপন্থী স্লোগান দেওয়ায় মার্কিন র্যাপার ম্যাকলেমোরকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ব্রিটিশ পপ তারকা এড শিরানের মার্কিন সফরের লাইনআপ থেকে একে একে সরে দাঁড়িয়েছেন অন্য সহশিল্পীরা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সফর থেকে সরে দাঁড়ানো শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন বিলি আইলিশের ভাই ফিনিয়াস, আইরিশ গায়ক ও গীতিকার অ্যারন রো, ড্যানিশ ব্যান্ড লুকাস গ্রাহাম এবং এড শিরানের সঙ্গে নিয়মিত পরিবেশনকারী আইরিশ ফোক ব্যান্ড বিওগা। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, নিপীড়িত মানুষের পক্ষে কথা বলার কারণে কোনো শিল্পীকে চুপ করিয়ে দেওয়া বা বয়কট করা উচিত নয়।
এর আগে গাজা ইস্যুতে কোনো প্রকাশ্য বিতর্কে জড়াতে চান না বলে জানিয়েছিলেন এড শিরান। একই সঙ্গে ম্যাকলেমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার পেছনে তার কোনো ভূমিকা নেই বলেও ইনস্টাগ্রামে দাবি করেন তিনি।
শিরান জানান, ম্যাকলেমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে সফরের প্রোমোটার প্রতিষ্ঠান ‘মেসিনা ট্যুরিং গ্রুপ’ নিয়েছে। এতে তার ব্যক্তিগত কোনো ভূমিকা ছিল না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ভক্ত ও সফরের ক্রুদের কথা বিবেচনা করে তিনি নিজে থেকে পুরো সফর বাতিল করেননি বলেও জানান।
বিতর্কের সূত্রপাত চলতি মাসের শুরুতে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এড শিরানের একটি কনসার্টে অতিথি শিল্পী হিসেবে অংশ নেন ম্যাকলেমোর, যার আসল নাম বেনজামিন হ্যাগার্টি। সেখানে তিনি ফিলিস্তিনের পক্ষে স্লোগান দেন। পাশাপাশি গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের ছবি প্রদর্শন করে নিজের আলোচিত গান ‘হাইন্ডস হল’ পরিবেশন করেন তিনি।
এরপর বিষয়টি নিয়ে ইহুদি সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। বিশেষ করে ম্যাসাচুসেটসের জিলেট স্টেডিয়ামের মালিক বিলিয়নিয়ার রবার্ট ক্রাফট জানান, ম্যাকলেমোরের বিরুদ্ধে ‘ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্যের’ অভিযোগ থাকায় তার ভেন্যু ঘৃণামূলক বক্তব্যের জন্য কোনো প্ল্যাটফর্ম দেবে না। ম্যাকলেমোরকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তটি তার নিজের বলেও জানান তিনি।
প্রোমোটারদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভেন্যুগুলোর চাপের মুখে ম্যাকলেমোরকে সফর থেকে না সরালে পুরো সফরই বাতিল হয়ে যেতে পারত। তবে ম্যাকলেমোরকে বাদ দেওয়া এবং শিল্পীর মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে এড শিরানের সহশিল্পীরা সফর থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
ড্যানিশ ব্যান্ড লুকাস গ্রাহাম এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, অর্থ থাকলেই কেউ আলোচনার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে না।
এদিকে পুরো ঘটনা নিয়ে ম্যাকলেমোরও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিরপেক্ষ থাকার কোনো সুযোগ নেই এবং নিপীড়কের পক্ষে থাকা কিংবা নীরব থাকারও একটি চড়া মূল্য দিতে হয়।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ম্যাকলেমোর জানান, এড শিরানের সফরে তিনি মাত্র দুটি শো করতে পেরেছেন। তবে তার বক্তব্যের কারণে যদি ফিলিস্তিন ইস্যুটি আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসে থাকে, তাহলে সেটিকেই তিনি নিজের জীবনের সবচেয়ে সফল সফর হিসেবে দেখছেন।
/এএসএফ