ভারতের উত্তরপ্রদেশের বিজনোর জেলায় ৪৩ বছর বয়সী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নওশাদ আহমেদকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে তাকে গুলি করা হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত গৌরব রাঠি নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।নওশাদ আহমেদ পুরুষোত্তমপুর এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরে স্কুল থেকে বের হওয়ার পর বিদ্যালয়ের কাছেই তার ওপর হামলা চালানো হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারী আগে থেকেই স্কুলের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। নওশাদ বের হওয়ার পর তার দিকে গুলি চালানো হয়। আমর উজালার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নওশাদের বুকে দুটি গুলি লাগে এবং আরেকটি গুলি স্কুলের দেয়ালে লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঋষিকেশের এইমস হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে তার মৃত্যু হয়।হামলার কিছুক্ষণ পরই অভিযুক্ত গৌরব রাঠি থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। পুলিশের কাছে তিনি হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি জমা দেন। পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। বিজনোরের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, হত্যার প্রকৃত কারণ এখনও তদন্তাধীন।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আত্মসমর্পণের পর গৌরব দাবি করেছেন, নওশাদ ‘লাভ জিহাদ’-এর পক্ষে কাজ করছিলেন—এমন সন্দেহ থেকেই তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে এটি অভিযুক্তের দাবি; পুলিশ তদন্ত করে হত্যার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করছে।তদন্তে ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয়টিও সামনে এসেছে। স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দিন আগে একটি আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। ওই ঘটনার সূত্র ধরে নওশাদ ও গৌরবের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় বলে পুলিশ খতিয়ে দেখছে।ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওই বিরোধের কয়েক দিন পর বাজারে গৌরবের সঙ্গে নওশাদের মুখোমুখি দেখা হয়। সেখানে দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং নওশাদ তাকে চড় মেরেছিলেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে। এরপর থেকেই গৌরব ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।অন্যদিকে, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে নওশাদের সম্পত্তি কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে এবং ব্যক্তিগত বা সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধের সম্ভাবনাও তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফলে হত্যার পেছনে ঠিক কোন কারণ কাজ করেছে, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।পুলিশ অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও তদন্ত করছে। ‘লাভ জিহাদ’ সংক্রান্ত অভিযুক্তের দাবির সত্যতা এবং ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয়—দুই দিকই তদন্তের আওতায় রয়েছে।
/বিএসএস