• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫২ এএম


ইরানের হামলায় ৬০ বিমানসহ মার্কিন ক্ষতি ৩৭০ কোটি ডলার!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯:১৭ পিএম

ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতির নতুন কিছু ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। এসব ছবিতে বিমান, ভবন ও বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলার প্রভাব দেখা গেছে। একই সময়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের এক প্রতিবেদনে সরঞ্জাম ক্ষতির পরিমাণ সর্বোচ্চ ৩৭০ কোটি ডলার বা ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জামের তালিকায় ৬০টি বিমানও রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এসব ছবি প্রকাশ করেছে সিবিএস নিউজ।

সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সক্রিয় দায়িত্বে থাকা কয়েকজন মার্কিন সেনাসদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছবিগুলো সরবরাহ করেন। সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যমসংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে তারা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি। ছবিগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক অবস্থানে ইরানি হামলার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা এক মার্কিন সেনাসদস্য সিবিএস নিউজকে বলেন, এটি তাদের ঘাঁটিগুলোর বড় ধরনের ক্ষতি। তবে মার্কিন জনগণের কাছে এর পুরো চিত্র তুলে ধরা হয়নি। তার ভাষায়, ‘আমরা যেন চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছি আর মুখে ঘুষি খাচ্ছি।’

সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির একটি ছবিতে বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি বিমানের পেছনের অংশে সরাসরি হামলার চিহ্ন দেখা গেছে বলে জানিয়েছে সিবিএস নিউজ। ছবিতে বিমানটির পোড়া মূল কাঠামো থেকে লেজের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে দেখা যায়।

ওই বিমানঘাঁটির আরও কিছু ছবিতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও ব্যারাকের পাশাপাশি কংক্রিটের ‘টি-ওয়াল’ প্রতিরোধক দেখা গেছে। এসব দেয়াল মূলত গ্রেনেড ও মর্টারের মতো হামলা থেকে সুরক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয়।

কুয়েতের ক্যাম্প বিউরিংয়ের ছবিতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। এটি মার্কিন সেনাসদস্য, সাঁজোয়া যান এবং কিছু বিমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এসব ছবি প্রকাশের সময়ই মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের মহাপরিদর্শক ইরান যুদ্ধের কারণে সরঞ্জাম ক্ষতির পরিমাণ সর্বোচ্চ ৩৭০ কোটি ডলার হতে পারে উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জামের তালিকায় ৬০টি বিমান থাকার কথাও জানানো হয়।

কংগ্রেসে দেওয়া বাধ্যতামূলক প্রতিবেদনে মহাপরিদর্শক জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানি হামলা হয়েছে।

এর আগে ইরাকের শুয়াইবা বন্দরে ১ মার্চের হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ হামলাটিকে ‘স্কোয়ার্টার’ বা ছোটখাটো অনুপ্রবেশকারীদের হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

তবে এ বিষয়ে ওই মার্কিন সেনাসদস্য ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, ‘এগুলো কোনো ‘স্কোয়ার্টার’ হামলা ছিল না। আমরা এসব ঘাঁটি রক্ষা করছি না। আমরা শুধু দেখছি, এগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।’

/এএসএফ