• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৭ এএম


ইসরায়েলের জন্য ৬০ হাজার ভারী বোমা পাঠানোর প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:২৯ পিএম

ইসরায়েলের কাছে প্রায় ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক অস্ত্র বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। প্রস্তাবিত এই অস্ত্র প্যাকেজে রয়েছে প্রায় ৬০ হাজার অত্যন্ত শক্তিশালী দুই হাজার পাউন্ড ওজনের বোমা। প্রতিটি বোমার ওজন প্রায় ৯০৭ কেজি।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত প্যাকেজে রয়েছে ২০ হাজার এমকে-৮৪, ২০ হাজার বিএলইউ-১১৭ এবং ২০ হাজার আই-২০০০ পেনিট্রেটর।

এসব অস্ত্রের বেশির ভাগ অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সামরিক অর্থায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে। অর্থাৎ মার্কিন সামরিক সহায়তার অর্থ ব্যবহার করেই ইসরায়েল এসব মার্কিন অস্ত্র কিনবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আল জাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েলের জন্য বড় এই অস্ত্র প্যাকেজের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে এবং কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোকে অনানুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত অস্ত্রগুলোর মধ্যে এমকে-৮৪ হলো মার্ক ৮০ সিরিজের সবচেয়ে বড় বোমা। এটি মূলত ভবন ও মাঝারি মাত্রায় সুরক্ষিত স্থাপনায় ব্যাপক বিস্ফোরণ ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। বিএলইউ-১১৭ দেখতে অনেকটা এমকে-৮৪-এর মতো হলেও এতে ভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয় এবং নির্ভুল নিশানা করার প্রযুক্তি যুক্ত করা যায়।

অন্যদিকে, আই-২০০০ পেনিট্রেটরকে ‘বাংকার বাস্টার’ বা ভূগর্ভস্থ ও শক্ত সুরক্ষিত স্থাপনা ধ্বংসকারী বোমা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শক্ত ও সুরক্ষিত স্থাপনা ভেদ করে ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে। এর আবরণ এমকে-৮৪-এর তুলনায় অনেক বেশি পুরু ও শক্ত।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল গত কয়েক দশক ধরে দুই হাজার পাউন্ড শ্রেণির মার্কিন বোমা ব্যবহার করে আসছে। গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর এসব শক্তিশালী বোমার ব্যবহার আরও বেড়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।

২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর গাজার ঘনবসতিপূর্ণ জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরে ইসরায়েলি হামলায় দুই হাজার পাউন্ড ওজনের একটি বোমা ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেছে আল জাজিরা। ওই হামলায় বড় একটি গর্ত তৈরি হয় এবং বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হন। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর ওই হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে বলে জানিয়েছিল।

২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনার মধ্যে ইসরায়েলের কাছে দুই হাজার পাউন্ড শ্রেণির কিছু বোমা সরবরাহ স্থগিত করেছিল। পরের বছর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন। একই সময়ে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়, যার মধ্যে ৩৫ হাজার ৫০০টির বেশি শক্তিশালী বোমা ছিল।

আল জাজিরার হিসাবে, প্রস্তাবিত ৬০ হাজার দুই হাজার পাউন্ড শ্রেণির বোমার মোট ওজন প্রায় ৫৪ হাজার ৪০০ টন। এই ওজন নিউইয়র্কের এম্পায়ার স্টেট ভবনের পুরো ইস্পাত কাঠামোর ওজনের কাছাকাছি এবং আইফেল টাওয়ারের লোহার কাঠামোর প্রায় সাত গুণ।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের অস্ত্রের মজুত নিয়েও চাপ রয়েছে। পেন্টাগনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে মার্কিন অস্ত্রের মজুত কমছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।

অস্ত্র বিক্রির এই খবর প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনেও সমালোচনা হয়েছে। মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন অস্ত্র বিক্রি ঠেকাতে কাজ করার কথা জানিয়েছেন। সাবেক কংগ্রেস সদস্য মারজোরি টেইলর গ্রিনও মার্কিন করদাতাদের অর্থে ইসরায়েলকে এসব অস্ত্র দেওয়ার সমালোচনা করেছেন।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ৬০ হাজার বোমার এই প্যাকেজ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অস্ত্রের মজুত এবং ইসরায়েলকে দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন সামরিক সহায়তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সূত্র: আল জাজিরা

/এএসএফ