মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের ছয় মাস পেরিয়ে গেছে। শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করলেও, সংঘাত এখনও অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের নির্দলীয় বাজেট দপ্তর কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) হিসাবে, আগস্টের শুরু পর্যন্ত এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার। সংঘাত অব্যাহত থাকলে প্রতি মাসে আরও ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে।
যুদ্ধের ব্যয় শুধু সামরিক খাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহনে বিঘ্নের কারণে জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। সিবিওর হিসাবে, জ্বালানি দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি যুদ্ধের আগে করা পূর্বাভাসের তুলনায় আরও প্রায় ০ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট বেশি হতে পারে।
যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দামও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক হিসাবে প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম ৬ দশমিক ২৭ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন ভোক্তাদের জ্বালানি বাবদ অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে মার্কিন সামরিক অস্ত্রের মজুত নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সিবিও জানিয়েছে, দ্রুত গতিতে গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক মজুত কমে গেছে। এসব মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রায় পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক সরকারি ঋণও ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। যুদ্ধের অর্থায়ন এবং ভবিষ্যৎ সামরিক ব্যয়ের কারণে দেশটির বাজেটের ওপর আরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সিবিওর ৩৮ বিলিয়ন ডলারের হিসাবের মধ্যে যুদ্ধের কারণে ভবিষ্যতে নেওয়া ঋণের সুদ এবং সাম্প্রতিক কিছু হামলার অতিরিক্ত ব্যয় পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
এদিকে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিতর্ক তীব্র হয়েছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধের ব্যয়, জ্বালানির মূল্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে ইরান যুদ্ধের প্রতি মার্কিন জনসমর্থন কমে যাওয়ার চিত্রও উঠে এসেছে।
এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে প্রায় ৫ হাজার ডলারের ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে এ অর্থ কীভাবে দেওয়া হবে এবং এর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন কীভাবে পাওয়া যাবে, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত স্পষ্ট নয়।
ইরান যুদ্ধের ব্যয়, অস্ত্রের মজুত, জ্বালানি মূল্য এবং মূল্যস্ফীতির চাপ—সব মিলিয়ে সংঘাতটি এখন সামরিক ক্ষেত্রের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলছে। সংঘাত যত দীর্ঘ হবে, এর আর্থিক ও অর্থনৈতিক ব্যয়ও তত বাড়তে পারে বলে মার্কিন কংগ্রেসের বাজেট দপ্তরের হিসাব ইঙ্গিত দিচ্ছে।
/এএসএফ