• ঢাকা
  • শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০২:৪৬ এএম


ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে আরঘচি

“ইরানের জনগণ শান্তিপ্রিয় এবং যুদ্ধ চায় না, কিন্তু প্রয়োজনে বিদেশি আগ্রাসনের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে প্রস্তুত”

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৫ মে ২০২৬ ১১:১১ এএম

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে কড়া বার্তা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেছেন, ইরানি জনগণ কখনো বাহ্যিক চাপ, হুমকি কিংবা আগ্রাসনের কাছে নতি স্বীকার করবে না। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জনগণের অধিকার ও দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় সর্বশক্তি নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের উপস্থিতিতে দেওয়া বক্তব্যে আরাঘচি অভিযোগ করেন, গত এক বছরের মধ্যে ইরান দুইবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের “নৃশংস ও অবৈধ আগ্রাসনের” শিকার হয়েছে।

তিনি বলেন, এসব হামলার পক্ষে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা এবং এমনকি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

আরাঘচি বলেন, “আমরা কি স্বাধীনতার আদর্শ থেকে সরে এসেছি? আমরা কি সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণ করেছি? উত্তর স্পষ্ট—আমরা করিনি, কখনও করবও না।”

তিনি আরও বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী, চিকিৎসাকর্মী, শিক্ষক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যরা নিজেদের নিরাপত্তার চেয়ে জনগণের জীবন রক্ষাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “এখন সবার বোঝা উচিত, ইরানকে ভাঙা যাবে না। চাপের মুখে দেশটি আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওঠে।”

তিনি জানান, ইরান নিজের স্বাধীনতা ও ভূখণ্ড রক্ষায় লড়াই করতে প্রস্তুত, তবে একইসঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আরাঘচি বলেন, “আমরা ইরানিরা কখনও চাপ বা হুমকির কাছে মাথা নত করি না। তবে সম্মানের ভাষার জবাব সম্মান দিয়েই দিই।”

তিনি দাবি করেন, ইরানের জনগণ শান্তিপ্রিয় এবং যুদ্ধ চায় না। কিন্তু বিদেশি আগ্রাসনের জবাবে “ধ্বংসাত্মক প্রতিশোধ” নিতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

ব্রিকসকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, এই জোট একটি নতুন বৈশ্বিক ব্যবস্থার প্রতীক, যেখানে গ্লোবাল সাউথ বিশ্বের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

তার অভিযোগ, পতনশীল সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার উত্থান ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

আরাঘচি বলেন, “ইরানের লড়াই শুধু নিজের জন্য নয়, বরং আমাদের সবার জন্য এবং আমরা যে নতুন বিশ্ব গড়ে তুলছি তার জন্য।”

তিনি ব্রিকস সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

আরাঘচির ভাষায়, “ব্রিকস আরও ন্যায়সঙ্গত, ভারসাম্যপূর্ণ ও মানবিক বৈশ্বিক ব্যবস্থা গঠনের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হতে পারে—যেখানে শক্তিই ন্যায়ের সংজ্ঞা নির্ধারণ করবে না।”

শেষে তিনি বলেন, “যে জাতিগুলো নিজেদের মর্যাদা ও স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়ায়, তারা কষ্ট সহ্য করতে পারে, কিন্তু কখনও পরাজিত হয় না।”

/এএসএফ