আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ:
আমেরিকার সাথে ইরানের শান্তির আলোচনার কয়েক দফার চেষ্টাই দেখা গেছে। জল অনেকদূর গড়ালেও শেষ পর্যন্ত কোন কিছুই এখনও শান্তির পথ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। এর কারনও খুব স্পষ্ট। আমেরিকা এ যুদ্ধ থেকে গা বাঁচাতে চাইছে। তবে, ইরানকে পরাজিত দেখানোর মাধ্যমে। আসলে, সারাবিশ্বের সামনে নিজের ইজ্জত বাঁচানো ও মোড়লগিরি অক্ষুন্ন রাখার আর কোন পথ খোলা নেই আমেরিকার সামনে। কিন্তু, ইরান নাছোড়বান্দা। প্রাণ যায় তবু হার মানব না। তাই, এক প্রকার বেকায়দায় বলা চলে আমেরিকা।
ইরানকে চাপে রেখে নতি স্বীকার করানোর জন্যই সম্ভবত ইরানের উপর হরমুজ ব্লকেড অব্যাহত রেখেছে আমেরিকা। কিন্তু, প্রকৃতি ইরানকে এমন এক ভোগৌলিক সুবিধা দিয়েছে যে শুধুমাত্র হরমুজ অবরোধ দিয়ে ইরানকে আটকে রাখা অসম্ভব। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সামরিক চাপের মুখে পড়লেও তেহরান সমান্তরালভাবে বিকল্প বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর জোর দিচ্ছে।
সম্প্রতি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার মন্তব্য করেন, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী দেখে বিশ্ব আর আগের মতো ভয় পায় না। তার এই বক্তব্য নতুন কৌশলগত আত্মবিশ্বাসের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন অনেকে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সমুদ্রপথের বিকল্প হিসেবে ইরান দ্রুত চীনের সঙ্গে স্থলভিত্তিক রেল যোগাযোগ জোরদার করছে। কাজাখস্তান ও তুর্কমেনিস্তান হয়ে চালু হওয়া দীর্ঘ রেল করিডোরে পণ্য পরিবহন সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন নৌ-চাপ বাড়লেও এই স্থলপথ ইরানের জন্য বড় কৌশলগত সুবিধা হয়ে উঠতে পারে।
একইসঙ্গে কাস্পিয়ান সাগর ব্যবহার করে রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের বাণিজ্য ও সরবরাহ কার্যক্রমও বাড়ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে শিল্প ও সামরিক সরঞ্জাম— অনেক কিছুই এখন এই পথ দিয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানের বন্দর ব্যবহার করে ইরানে পণ্য পরিবহনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। করাচি ও গওয়াদর বন্দর হয়ে স্থলপথে ইরানে পণ্য প্রবেশের খবর বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব বিকল্প করিডোর সক্রিয় হওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে চাপ তৈরি হলেও ইরান পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে না। বরঞ্চ, ব্লকেড অব্যাহত রাখতে অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে আমেরিকার অবস্থাই নাজেহাল হচ্ছে।
