• ঢাকা
  • বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪০ এএম


‘৮০-৯০ দশকের’ রেট্রো ছবি বানাচ্ছেন? জেনে নিন আড়ালের ঝুঁকি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮:৫৬ এএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর অ্যাপ ব্যবহার করে নিজের ছবি আশি ও নব্বই দশকের আবহে বা ‘রেট্রো লুকে’ রূপান্তর করার প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের কাছে এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম বেশ আকর্ষণীয় ও বিনোদনমূলক মনে হলেও এর আড়ালে ব্যবহারকারীর অজান্তেই সংবেদনশীল ব্যক্তিগত ও বায়োমেট্রিক তথ্য বেহাত হওয়ার বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমানে প্রচলিত বিভিন্ন এআই অ্যাপে একটি সাধারণ ছবি আপলোড করলেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সেটিকে আশি-নব্বই দশকের পোশাক, চুলের স্টাইল কিংবা পুরোনো ঢাকার আবহে রূপান্তর করা যাচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃতীয় পক্ষের কোনো এআই প্ল্যাটফর্মে ছবি আপলোড করার সময় শুধু মুখমণ্ডলের ছবিই ওই প্ল্যাটফর্মে পৌঁছায় না। ছবির মেটাডেটার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট স্থানের সুনির্দিষ্ট অবস্থান বা লোকেশন, ছবির পেছনের পরিবেশ এবং আশপাশে থাকা প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্রের তথ্যও তাদের সার্ভারে সংরক্ষিত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল পাসওয়ার্ড চুরি হয়ে গেলে সেটি পরিবর্তন করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু মানুষের মুখের জৈবিক বা বায়োমেট্রিক গঠন স্থায়ী হওয়ায় এ ধরনের তথ্য একবার বেহাত হলে ঝুঁকি অনেক বেশি।

সাইবার বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ব্যবহারকারীদের মুখমণ্ডলের স্পষ্ট অবয়ব ও কণ্ঠস্বরের নমুনা অনিরাপদ অনলাইন সার্ভারে সংরক্ষিত হলে তা ব্যবহার করে ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হতে পারে। একই সঙ্গে বিভ্রান্তিকর ‘ডিপফেক’ ভিডিও তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।

এ ছাড়া ব্যবহারকারী কোনো এআই অ্যাপ বা অ্যাকাউন্ট মুছে ফেললেও সেই ছবি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যাকআপ সার্ভারে স্থায়ীভাবে থেকে যেতে পারে। পরবর্তীতে এসব ছবি এআই মডেল প্রশিক্ষণ কিংবা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের ঝুঁকিও রয়েছে।

এ ধরনের সাইবার ঝুঁকি থেকে নিরাপদ থাকতে যেকোনো এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সেবা ও গোপনীয়তার নীতিমালা বা প্রাইভেসি পলিসি ভালোভাবে পড়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ব্যবহারকারীর আপলোড করা ছবি কতদিন পর্যন্ত সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে এবং নির্দিষ্ট সময় পর সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলা হবে কি না, সে বিষয়ে আগে থেকেই নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

একই সঙ্গে এআই অ্যাপ ব্যবহারের সময় পুরো ফোনের গ্যালারি, লোকেশন, ক্যামেরা কিংবা পরিচিতি তালিকায় পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেওয়ার পরিবর্তে শুধু যে নির্দিষ্ট ছবিটি রূপান্তর করা হবে, সেটির জন্যই অনুমতি দেওয়াকে তুলনামূলক নিরাপদ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স কিংবা ব্যাংক কার্ডের মতো কোনো সংবেদনশীল নথির ছবি কোনো অবস্থাতেই এআই টুলে আপলোড না করার জন্য ব্যবহারকারীদের বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

/এসএন