• ঢাকা
  • বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪০ এএম


মাত্র তিন দিনে ‘ঘুষ.সাইট’-এ ১ হাজার ৮৫৬ অভি’যোগ, চাওয়া হয়েছে ২৫ কোটি টাকা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৪ আগস্ট ২০২৬ ৭:৫৫ পিএম

সরকারি সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে কোথায় এবং কত টাকা ঘুষ দিতে হচ্ছে কিংবা ঘুষের দাবি করা হচ্ছে, সেই অভিজ্ঞতা প্রকাশের জন্য চালু হয়েছে নতুন একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘ঘুষ.সাইট’ (ghush.site)। গত ২১ আগস্ট চালু হওয়া এই ওয়েবসাইটে পরিচয় গোপন রেখেই ভুক্তভোগীরা নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে পারছেন। চালুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই প্ল্যাটফর্মটিতে বিপুলসংখ্যক অভিযোগ জমা পড়েছে।

ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত গত তিন দিনে সেখানে ১ হাজার ৮৫৬টি অভিযোগ জমা হয়েছে। এসব অভিযোগে ঘুষ হিসেবে দাবি করা অর্থের মোট পরিমাণ ২৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

বাংলাদেশি দুই বন্ধু সাইফ কবির ও শাহেদ শরিফ বিদেশের একটি ওয়েবসাইট থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করেছেন। তাদের উদ্দেশ্য হলো, বিভিন্ন মানুষের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ঘুষের অভিজ্ঞতাগুলোকে একটি জায়গায় তুলে এনে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে দুর্নীতির চিত্র সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা তৈরি করা।

তবে উদ্যোক্তারা স্পষ্ট করেছেন, ‘ঘুষ.সাইট’ কোনো তদন্ত সংস্থা কিংবা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিকল্প নয়। ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিটি অভিযোগের সঙ্গে ‘আনভেরিফায়েড’ বা যাচাইহীন উল্লেখ রাখা হয়।

প্ল্যাটফর্মটিতে অভিযোগ জানানোও বেশ সহজ। এজন্য ব্যবহারকারীকে কোনো অ্যাকাউন্ট খুলতে হয় না এবং পুরো প্রক্রিয়াটি দুই মিনিটেরও কম সময়ে সম্পন্ন করা যায়।

অভিযোগ জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে পাঁচটি প্রধান তথ্য দিতে হয়। এগুলো হলো—দপ্তরের নাম, সেবার ধরন, এলাকা বা অঞ্চল, ঘুষ হিসেবে দাবি করা অর্থের পরিমাণ এবং শেষ পর্যন্ত কী ঘটেছিল তার ফলাফল।

এ ছাড়া ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর নাম, পদবি কিংবা ফোন নম্বর উল্লেখ করা যায় না। উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য কোনো ব্যক্তিকে আলাদাভাবে অভিযুক্ত করা নয়; বরং কোন ধরনের সরকারি সেবায় অনিয়মের প্রবণতা বেশি, তার একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা।

ব্যবহারকারীরা অভিযোগ জমা দিলেই তা সরাসরি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় না। প্রকাশের আগে কঠোর মডারেশনের মাধ্যমে অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় ব্যক্তিগত ও গোপনীয় তথ্য সরিয়ে ফেলা হয়। একই সঙ্গে আক্রমণাত্মক, অস্পষ্ট কিংবা ওয়েবসাইটের নীতিমালা লঙ্ঘন করে—এমন অভিযোগও বাদ দেওয়া হয়।

উদ্যোক্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দুই দিনেই ওয়েবসাইটটিতে ১ হাজার ৮৫৬টি অভিযোগ জমা পড়ে। এসব অভিযোগে ঘুষ হিসেবে চাওয়া অর্থের মোট পরিমাণ ২৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে ঢাকা থেকে। রাজধানী থেকে জমা পড়েছে ৮৬৯টি অভিযোগ। এরপর চট্টগ্রাম থেকে ৪৩৮, রাজশাহী থেকে ১২২, খুলনা থেকে ১১৫, রংপুর থেকে ৯৮, সিলেট থেকে ৭৯, ময়মনসিংহ থেকে ৭১ এবং বরিশাল থেকে ৬৪টি অভিযোগ এসেছে।

অভিযোগকারীদের ১৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। অর্থাৎ, সেবার বিনিময়ে অন্যায়ভাবে ঘুষ চাওয়া হলেও এসব নাগরিক সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

দুই উদ্যোক্তা কোনো এনজিও বা প্রাতিষ্ঠানিক অনুদান ছাড়াই নিজেদের অর্থে ওয়েবসাইটটি পরিচালনা করছেন। তবে সাধারণ মানুষের জন্য সাইটটিতে স্বেচ্ছা অনুদান দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

উদ্যোক্তাদের একজন সাইফ কবির একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের কাছে সাফল্যের মাপকাঠি শুধু ভিজিটর সংখ্যা নয়। কোনো নাগরিক সরকারি সেবা নিতে যাওয়ার আগে যদি মানুষের অভিজ্ঞতা দেখে বুঝতে পারেন কোথায় ঘুষ চাওয়া হচ্ছে এবং অন্যায্য দাবি প্রত্যাখ্যান করতে পারেন, সেটাই হবে আমাদের আসল সাফল্য।’

/এসএন