পরমাণু সংকটের সমাধান হলে ইরানকে পরমাণু জ্বালানি সরবরাহ করতে প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের রেইবার্ন হাউস অফিস বিল্ডিংয়ে দেওয়া এক বক্তব্যে এ কথা জানিয়েছেন মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট।
ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে ক্রিস রাইট বলেন, ইরান চাইলে দেশের বাইরে থেকে তাদের প্রয়োজনীয় পরমাণু জ্বালানি সরবরাহ করা সম্ভব। তবে এ প্রস্তাবটি সরাসরি ইরানের পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে ইরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটির দাবি, তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করেনি।
ক্রিস রাইট বলেন, সমস্যার সমাধান হলে ইরান আবারও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। এর মাধ্যমে দেশটির জনগণের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে এর মধ্যেই ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ঘিরে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ছে। তেহরানের প্রায় ১৪০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত নাতান্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সের কাছে চলতি বছর নির্মাণকাজের গতি স্পষ্টভাবে বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে ‘চূড়ান্ত হামলা’ চালানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ আরও তীব্র করার হুমকি দেন। তিনি বলেন, ইরানে আরও বড় পরিসরে বোমা হামলা চালানো হতে পারে এবং দেশটি কখনোই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।
এ ছাড়া নাতান্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সের কাছাকাছি পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন সাইটে বিভিন্ন তৎপরতা ও নড়াচড়া শনাক্ত করার কথাও জানান ট্রাম্প। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, খুব শিগগিরই ওই সাইটেও হামলা চালানো হতে পারে।
একদিকে পরমাণু সংকটের সমাধান হলে ইরানকে পরমাণু জ্বালানি সরবরাহের প্রস্তুতির কথা জানাচ্ছে ওয়াশিংটন, অন্যদিকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সামরিক হামলার সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর
/এএসএফ