• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৭ এএম


ক্যামেরার নজরদারি এড়িয়ে চলার নতুন প্রযুক্তি, শনাক্ত হবে না মানুষ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১১ আগস্ট ২০২৬ ৩:৫৩ পিএম

ক্যামেরা চলছে, সামনে থাকা ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে, এমনকি তিনি পুলিশের সঙ্গে কথাও বলছেন। কিন্তু ক্যামেরায় কোনো তথ্য রেকর্ড বা শনাক্ত হচ্ছে না। সিনেমার কোনো দৃশ্য নয়, এমন প্রযুক্তিই বাস্তবে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হচ্ছে।

নজরদারি ক্যামেরার মাধ্যমে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার লক্ষ্যে ‘নো রিকগনেশন’ প্রযুক্তি তৈরি করেছেন মার্কিন সাইবার বিশেষজ্ঞ বিল সোয়্যারিনগেন। প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ ডেটা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তিনি বিশেষ ধরনের কম্পিউটার-জেনারেটেড প্যাটার্ন তৈরি করেন।

এসব প্যাটার্ন পোশাক বা বিভিন্ন বস্তুর ওপর প্রয়োগ করা হলে ক্যামেরার অবজেক্ট শনাক্তকারী অ্যালগরিদম সেগুলো সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পারে না। অর্থাৎ ক্যামেরা তার সামনে থাকা দৃশ্য ধারণ করতে পারলেও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা বস্তুকে শনাক্ত করার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়।

এই প্রযুক্তি ক্যামেরার ফুটেজ ধারণ বন্ধ করে না। তবে মানুষের মুখ, বিভিন্ন বস্তু কিংবা গাড়ির লাইসেন্স প্লেট শনাক্ত করার সক্ষমতাকে অকার্যকর করে দেয়। এর ফলে স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং অ্যালগরিদম কোনো সংকেত বা সতর্কবার্তাও পাঠাতে পারে না।

বিল সোয়্যারিনগেন এই প্রযুক্তিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি থেকে মানুষের ‘অপ্ট-আউট’ করার অধিকার হিসেবে দেখছেন। অর্থাৎ প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের ওপর পরিচালিত স্বয়ংক্রিয় নজরদারি থেকে নিজেকে দূরে রাখার সুযোগ তৈরি করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

সোয়্যারিনগেন তার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক মডেলটিকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, যাতে সেটি নিজে থেকেই নতুন নতুন প্যাটার্ন তৈরি করতে পারে। এসব প্যাটার্ন ফ্লক লাইসেন্স প্লেট রিডার, অ্যাক্সন বডি ক্যামেরা এবং ক্লিয়ারভিউ এআইসহ ১১টি ওপেন-সোর্স অ্যালগরিদমের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ডেফ কন সাইবার নিরাপত্তা সম্মেলনেও প্রযুক্তিটির বাস্তব পরীক্ষা চালানো হয়েছে। সেখানে বিশেষ প্যাটার্নযুক্ত একটি গাড়ি ব্যবহার করে পরীক্ষাটি সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়।

শিগগিরই এসব বিশেষ প্যাটার্নযুক্ত পোশাক সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে নজরদারি ক্যামেরার উপস্থিতিতেও ব্যক্তিগত পরিচয় শনাক্তকরণ ঠেকানোর নতুন একটি প্রযুক্তিগত সুযোগ তৈরি হতে পারে।

/এসএন