জুম কলে একসঙ্গে ৯০০ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসা ভারতীয় বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা বিশাল গার্গ এবার নিজেই চাকরি হারিয়েছেন। আলোচিত সেই ছাঁটাইয়ের প্রায় পাঁচ বছর পর নিজের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি থেকেই বিদায় নিতে হলো তাকে।
গত ৩ আগস্ট অনলাইন মর্টগেজ কোম্পানি বেটার হোম অ্যান্ড ফাইন্যান্সের সিইও পদ থেকে গার্গকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হেজ ফান্ড ম্যানেজার ড্যানিয়েল লুইসকে। গার্গের চাকরি হারানোর খবর প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
তবে চাকরি হারিয়ে চুপ করে বসে নেই গার্গ। তিনি দাবি করেছেন, ড্যানিয়েল লুইস কৌশলে তাকে সরিয়ে পরিচালনা পর্ষদের আস্থা অর্জন করেছেন।
গার্গের দাবি, প্রায় ছয় মাস আগে লুইস তার সঙ্গে যোগাযোগ করে কোম্পানির খরচ কমানো ও লাভজনক করার বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছিলেন। এরপর গত ২৭ জুলাই লুইসকে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে নেওয়া হয়। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি অন্য পরিচালকদের গার্গকে সিইও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে রাজি করান বলে অভিযোগ করেন গার্গ।
গার্গ বলেন, ‘আমার ধারণা, সে সবসময়ই সিইও হতে চেয়েছিল। বোর্ড ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
নিজের পদ ফিরে পেতে এবার আইনি পথেও হাঁটছেন গার্গ। তিনি প্রভাবশালী আইনজীবী অ্যালেক্স সাপিরোকে নিয়োগ করেছেন। পরিচালনা পর্ষদের কাছে পাঠানো চিঠিতে তাকে আবার সিইও পদে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
গার্গ বলেন, তিনি গত ১০ বছর ধরে কোম্পানিটি পরিচালনা করেছেন। কিছু ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন নিখুঁত না হলেও ‘বেটার ও হোমের’ ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি এখনও আশাবাদী।
এর আগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বেটারের প্রায় ৯০০ কর্মীকে একটি জুম কলে চাকরিচ্যুত করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন গার্গ। ওই কর্মীরা তখন কোম্পানিটির মোট কর্মীসংখ্যার প্রায় ৯ শতাংশ ছিলেন।
সেই জুম কলের মাধ্যমে কর্মী ছাঁটাইয়ের ধরন নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। ছাঁটাইয়ের কারণ হিসেবে গার্গ বাজারের দক্ষতা, কর্মদক্ষতা ও উৎপাদনশীলতার কথা বলেছিলেন। চাকরিচ্যুত কর্মীদের মধ্যে কোম্পানির পুরো বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি দলও ছিল।
প্রায় পাঁচ বছর পর এবার সেই বহুল আলোচিত সিইও নিজেই তার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির প্রধান নির্বাহী পদ হারালেন।
/এএসএফ