ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাত মাস পর সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তটি মূলত তারই নেওয়া ছিল। একই সঙ্গে এতদিন পর এ বিষয়ে তদন্তের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সাবেক সরকারের নেওয়া ওই সিদ্ধান্তের তদন্তে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি ২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কারও সঙ্গে আলোচনা না করে তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এককভাবে ভারতে বাংলাদেশ দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে আসিফ নজরুল দাবি করেন, ভারতে বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্তটি ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে মূলত তারই ছিল।
আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের মর্যাদা ও ক্রিকেটারদের নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা থেকেই তিনি ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান। এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি লেখেন, ‘আমি নিজেই এ কথা একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছি। তাই এতদিন পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিষয়টি তদন্ত করে তা প্রকাশের কারণ বুঝলাম না।’
তবে সিদ্ধান্তের পক্ষে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি তৎকালীন নির্বাচন ও ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার বিষয়টিও তুলে ধরেন। এসব বিবেচনায় ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে, এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি আসিফ নজরুল দাবি করেছিলেন, বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত বিসিবি ও ক্রিকেটাররা যৌথভাবে নিয়েছিলেন। তার ওই বক্তব্যের পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। তিনি প্রকাশ্যে আসিফ নজরুলকে ‘মিথ্যুক’ আখ্যা দিয়ে তার বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন।
সাত মাস পর প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে সিদ্ধান্তটি আসিফ নজরুলের একক সিদ্ধান্ত ছিল বলে উল্লেখ করা এবং এবার নিজেও সেই সিদ্ধান্তের দায় স্বীকার করায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
/এএসএফ