• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৭ এএম


বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে বৃহস্পতিবার, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাকিরা থেকে কেটি পেরি সহ রয়েছে একাধিক চমক

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১০ জুন ২০২৬ ৯:২৮ পিএম

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন ফিফা বিশ্বকাপ। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই আসর এবার যৌথভাবে আয়োজন করছে উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৪ সালে এবং মেক্সিকো ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল। তবে কানাডার জন্য এবারই প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে। তিন দেশের ১৬টি ভেন্যুতে ৩৯ দিনব্যাপী চলবে এই মহাযজ্ঞ, যেখানে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

আগামী ১১ জুন মেক্সিকোর ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ পর্বের খেলা শুরু হবে। আর ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের বিশ্বকাপ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকছে ব্যতিক্রমী আয়োজন

এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে একাধিক দিক থেকে ব্যতিক্রমধর্মী। প্রথমবারের মতো তিনটি আয়োজক দেশে একইসঙ্গে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে পৃথকভাবে অনুষ্ঠান হলেও সব আয়োজন একটি অভিন্ন থিমের মাধ্যমে যুক্ত থাকবে।

প্রতিটি অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্ট দেশের উদ্বোধনী ম্যাচের ৯০ মিনিট আগে শুরু হবে। ফুটবলের মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে মানুষকে একত্রিত করার বার্তাই থাকবে এসব অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য।

এই আয়োজনের প্রযোজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মার্কো বালি, যিনি একাধিক অলিম্পিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি অনুষ্ঠান নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ধারণ করলেও সবকটিই ফুটবলের ঐক্যের বার্তাকে তুলে ধরবে।

দেশভেদে ভিন্ন থিম

প্রতিটি আয়োজক দেশ তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভিজ্যুয়াল পরিচয় তুলে ধরবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে।

  • কানাডার থিম: ‘কালচারাল মোজাইক’ বা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য
  • মেক্সিকোর থিম: ঐতিহ্যবাহী ‘পাপেল পিকাডো’ শিল্প
  • যুক্তরাষ্ট্রের থিম: ‘ঝলমলে, উজ্জ্বল’ কাপ উদযাপন

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, “বিশ্বকাপের সূচনা এমন একটি মুহূর্ত, যা পুরো বিশ্ব একসঙ্গে ভাগ করে নেয়। মেক্সিকো সিটি থেকে শুরু হয়ে টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেসে এই অনুষ্ঠানগুলো অনুষ্ঠিত হবে, যা সংগীত, সংস্কৃতি ও ফুটবলের এক অভিন্ন উদ্‌যাপন হবে।”

মেক্সিকো সিটির উদ্বোধনী আয়োজন

১১ জুন মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সেখানে দেশটির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, আধুনিক লোকশিল্প এবং ‘পাপেল পিকাডো’ শিল্পের প্রদর্শনী থাকবে।

এই আয়োজনে অংশ নেবেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী শাকিরা, জে বালভিন, মানা, লিলা ডাউনসসহ আরও অনেক তারকা সংগীতশিল্পী।

টরন্টোতে কানাডার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রদর্শন

কানাডার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে টরন্টো স্টেডিয়ামে। সেখানে দেশটির বহুসাংস্কৃতিক পরিচয় ও বৈচিত্র্য তুলে ধরা হবে।

অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন আলানিস মরিসেট, মাইকেল বুবলে, এলেসিয়া কারা, জেসি রেইজস, নোরা ফাতেহি, সঞ্জয়সহ আরও অনেক শিল্পী। ঘরের মাঠে কানাডার প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচের আগে এই আয়োজন দেশটির জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করবে।

লস অ্যাঞ্জেলেসে যুক্তরাষ্ট্রের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন

১২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে দেশটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এতে থাকবে বিশাল ভিজ্যুয়াল শো এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উপস্থাপনা।

এ অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন কেটি পেরি, ফিউচার, আনিতা, এলএলএ ও রেমাসহ একাধিক জনপ্রিয় শিল্পী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর প্রতিটি ভেন্যুতে খেলোয়াড়দের ওয়ার্ম-আপ, প্রি-ম্যাচ কার্যক্রম এবং আনুষ্ঠানিক কিক-অফ প্রোটোকল সম্পন্ন করা হবে।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, মেক্সিকো সিটির অনুষ্ঠান প্রায় ১৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী হবে। অন্যদিকে টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলবে প্রায় ১৩ মিনিট করে।