ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত পুরস্কারগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ফিফা বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি। ১৮ ক্যারেট খাঁটি সোনায় তৈরি এই ট্রফিকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ ও কৌতূহলের কোনো শেষ নেই। তবে অনেকেরই অজানা, গত প্রায় পাঁচ দশক ধরে একই ইতালীয় পরিবার এই মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি তৈরির সঙ্গে জড়িত।
বিশ্বকাপ ট্রফির নকশা ও নির্মাণের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ইতালির বিখ্যাত গাজ্জানিগা পরিবার। ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও রয়েছে, যা ট্রফিটির ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফিটি ১৮ ক্যারেট খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি। এর উচ্চতা ১৪ ইঞ্চি বা ৩৬ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার এবং ওজন ১৩ পাউন্ড বা প্রায় ৬ দশমিক ১৭ কেজি। ট্রফিটির নকশা করেছেন ইতালির শিল্পী সিলভিও গাজ্জানিগা। বর্তমানে এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার।
১৯৭০ সালে ব্রাজিল তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে জুলে রিমে ট্রফির স্থায়ী মালিকানা লাভ করে। এরপর নতুন ট্রফির নকশা নির্বাচনের উদ্যোগ নেয় ফিফা।
১৯৭১ সালে ইতালির মিলান শহরের শিল্পী সিলভিও গাজ্জানিগা বর্তমান বিশ্বকাপ ট্রফির নকশা তৈরি করেন। সাতটি দেশের মোট ৫৩ জন ভাস্করের জমা দেওয়া নকশার মধ্য থেকে তার নকশাই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়।
বর্তমান ট্রফির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো—দুটি মানবমূর্তি হাত উঁচু করে পৃথিবীর প্রতীক হিসেবে একটি গোলককে ধারণ করে আছে। এই নকশাই আজকের ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির পরিচিত রূপ।
বিশ্বকাপ ট্রফিটি সম্পূর্ণ ১৮ ক্যারেট খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি। প্রায় ১৪ ইঞ্চি উচ্চতার এই ট্রফির ওজন ৬ দশমিক ১৭ কেজি।
ট্রফি তৈরির সময় এর নির্মাণ ব্যয় ছিল মাত্র ৫০ হাজার ডলার। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর মূল্য বহুগুণ বেড়েছে। বর্তমানে ট্রফিটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৩৫ কোটি টাকারও বেশি।
সিলভিও গাজ্জানিগা মিলানের বার্তোনি ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির হয়ে কাজ করতেন। সেই সময় থেকেই বিশ্বকাপ ট্রফি তৈরির দায়িত্ব পালন করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।
সিলভিও গাজ্জানিগার মৃত্যুর পর বর্তমানে তার ছেলে জর্জিও গাজ্জানিগা এই ঐতিহ্য রক্ষা ও তদারকির দায়িত্ব পালন করছেন। শুধু ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফিই নয়, বার্তোনি প্রতিষ্ঠান উয়েফা কাপ এবং ইউরোপিয়ান সুপার কাপের ট্রফিও তৈরি করে থাকে।
বিশ্বকাপ জয়ী দলগুলো আসল ট্রফির স্থায়ী মালিক হতে পারে না। চ্যাম্পিয়নরা উদযাপনের সময় আসল ট্রফি হাতে পেলেও সেটি পরে ফিফার কাছেই সংরক্ষিত থাকে।
বিজয়ী দলকে পরবর্তীতে ট্রফির একটি বিশেষ প্রতিরূপ বা রেপ্লিকা দেওয়া হয়। ফলে আসল বিশ্বকাপ ট্রফি সবসময় ফিফার তত্ত্বাবধানেই সংরক্ষিত থাকে।
/এসএন