• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৮ এএম


সরকারি চাকরিতে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, যোগ্যতাই বিবেচ্য: ডেপুটি স্পিকার

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৬ অক্টোবর ২০২৬ ৯:৪১ পিএম

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও সুসংহত করতে প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে জনমুখী ও জবাবদিহিমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে নিজের কার্যালয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের (এপিপিজি) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য অপসানা বেগম, শওকত আদম এবং যুক্তরাজ্যের এপিপিজির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লর্ড কুরবান হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, বিগত প্রায় দেড় দশকে দেশে প্রকৃত গণতান্ত্রিক চর্চা ছিল না। তবে বর্তমানে জাতীয় সংসদে পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক চর্চা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো সক্রিয় ও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে এবং বিরোধী দলও সংসদে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, এর ফলে সংসদীয় রাজনীতিতে পরিবর্তন এসেছে।

তিনি জানান, যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতাকে অনুসরণ করে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার কাজ চলছে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে এবং দেশ-বিদেশে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ বক্তব্যটি বৈঠকে ডেপুটি স্পিকারের দেওয়া দাবি হিসেবে উঠে এসেছে।

বৈঠকে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চায়। জবাবে কায়সার কামাল বলেন, দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে সমান অধিকার ও মর্যাদা দেওয়া হয়। বর্তমান জাতীয় সংসদে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়েও তাদের অংশগ্রহণ রয়েছে বলে তিনি জানান।

আলোচনায় জাতীয় সংসদে দীর্ঘদিন ধরে নারী নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিষয়টিও উঠে আসে। এ সময় বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের ধারাবাহিক ভূমিকার প্রশংসা করেন ব্রিটিশ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডেপুটি স্পিকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করতে ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান কায়সার কামাল। তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মডেল হিসেবে উল্লেখ করেন।

বৈঠকে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শাখা চালুর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়।

ডেপুটি স্পিকার আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরাসরি সংসদ অধিবেশন দেখার পাশাপাশি ঐতিহাসিক জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শনের সুযোগ পাচ্ছে।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে কায়সার কামাল বলেন, দুই দেশের বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের এবং ঘনিষ্ঠ। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা দুই দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে দুই দেশের সংসদীয় অভিজ্ঞতা বিনিময়, বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাখা চালু এবং পারস্পরিক কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে ডেপুটি স্পিকার ব্রিটিশ প্রতিনিধিদলকে জাতীয় সংসদ ভবন ও নবনির্মিত জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান। প্রতিনিধিদল এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে।

/এএসএফ