দেশের প্রশাসনিক কেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ে দর্শনার্থীদের প্রবেশের ক্ষেত্রে নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করেছে সরকার। এখন থেকে ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপি যাচাই ছাড়া কোনো দর্শনার্থীকে সচিবালয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সচিবালয়ের ভেতরে বিশৃঙ্খলা ও তদবিরবাজদের অপতৎপরতা ঠেকাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবালয় নিরাপত্তা শাখা থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যথাযথ প্রবেশ পাস বা অনুমতিপত্র ছাড়াই দর্শনার্থীদের বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রবেশের প্রবণতা সম্প্রতি বেড়েছে। এ ধরনের অনুমোদনবিহীন প্রবেশ সচিবালয়ের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি দাফতরিক কার্যক্রমের স্বাভাবিক পরিবেশও এতে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ কারণে সচিবালয়ে আসা প্রত্যেক দর্শনার্থীর প্রবেশের আগে যথাযথভাবে ওটিপি এবং বৈধ অনুমতিপত্র বা মেয়াদ থাকা চিঠি যাচাই করে তারপর প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সচিবালয় দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী, সচিবসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এখানে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে সরকারি বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক এবং নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমের বড় অংশও এখান থেকে পরিচালিত হয়। ফলে দর্শনার্থীদের প্রবেশের ক্ষেত্রে পরিচয় ও অনুমোদন নিশ্চিত করা নিরাপত্তাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে মূলত দর্শনার্থীদের প্রবেশের অনুমোদন ডিজিটালভাবে যাচাইয়ের বিষয়টিকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি পরিচিত কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সঙ্গে সাক্ষাতের কথা বললেই সচিবালয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। সংশ্লিষ্ট অনুমোদনের পাশাপাশি ওটিপি যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সচিবালয়ের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা ও তদবিরবাজদের অপতৎপরতা বন্ধ এবং নিরাপত্তা জোরদার করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. তোফায়েল হোসেনের সই করা নির্দেশনাটি সচিবালয় নিরাপত্তা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি অবগত ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিব এবং মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রীদের একান্ত সচিবদের কাছেও নির্দেশনার অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।
সচিবালয়ে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের এই উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হলে অনুমোদন ছাড়া প্রবেশের সুযোগ সীমিত হওয়ার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের পরিচয় ও প্রবেশের উদ্দেশ্য যাচাই আরও সুশৃঙ্খল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে প্রশাসনিক কাজে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ, বিভিন্ন দপ্তরে অবাধ যাতায়াত কিংবা তদবিরের উদ্দেশ্যে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে ওটিপি ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে নির্দেশনার মূল লক্ষ্য কেবল প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা নয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, সচিবালয়ের ভেতরে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের স্বাভাবিক দাফতরিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখাও এই পদক্ষেপের অন্যতম উদ্দেশ্য।
/এএসএফ