• ঢাকা
  • সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৯ এএম


আইনি জটিলতার মধ্যেও দেশে ফেরার ইচ্ছা সাকিবের

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১ মে ২০২৬ ১১:১৪ পিএম

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রায় দুই বছর ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করা সাকিব আল হাসান অবশেষে বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাব্য সময় নিয়ে মুখ খুলেছেন। সাবেক বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার জানিয়েছেন, সবকিছু অনুকূলে থাকলে ২০২৬ সালের শেষ দিকে দেশে ফিরতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর আর দেশে ফেরা হয়নি সাকিবের। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি। এর পর তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক আইনি জটিলতা তৈরি হয়। এরপর থেকেই তিনি পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

সম্প্রতি ভারতের মুম্বাইয়ে ‘ইইউ টি-টোয়েন্টি বেলজিয়াম ২০২৬’-এর জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে ভারতীয় গণমাধ্যম স্পোর্টস্টার-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার বিষয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা জানান সাকিব।

তিনি বলেন, “আমি আশাবাদী যে বছরের শেষ দিকে সবকিছুর সমাধান হয়ে যাবে। আপাতত ভালো কিছুর প্রত্যাশা করছি। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত— আমাকে বাংলাদেশে ফিরতেই হবে। প্রশ্ন শুধু এটাই যে কত দ্রুত তা ঘটতে পারে।”

এ বিষয়ে আরও তিনি বলেন, “আমি আশাবাদী যে বছরের শেষ দিকে ফিরতে পারব। কিভাবে ঘটবে জানি না। তবে আমি সত্যিই আশাবাদী।”

চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সাকিবকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়। তখন আমিনুল ইসলাম বুলবুল-এর নেতৃত্বাধীন বোর্ড তার আইনজীবীদের কাছ থেকে মামলার নথিপত্র সংগ্রহ করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল।

সে সময় বিসিবির কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, পাকিস্তান সিরিজ দিয়েই জাতীয় দলে ফিরতে পারেন সাকিব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।

এ বিষয়ে সাকিব বলেন, আগের বোর্ড তাকে ফেরানোর ইচ্ছা দেখালেও কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। তার ভাষায়, “আগের বোর্ড সত্যিই আমাকে ফেরানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেছিল। কিন্তু মুখে বলা আর সেটাকে বাস্তবায়িত করা— দুটির মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকে। এখনও আমি শুনি যে সবাই আমাকে ফেরাতে চায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো— সত্যিকার অর্থে কেউ তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি।”

এদিকে বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবালও সাকিবের দেশে ফেরার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানিয়েছেন। মিরপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “সাকিবকে নিয়ে যেমন আলোচনা হচ্ছে, আমাদের আরও দুই সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাখালেদ মাহমুদ সুজন ভাইও একই অবস্থায় আছেন। তাদের নিয়েও ভাবা উচিত।”

তিনি আরও বলেন, “ওর যে বিষয়টা আছে, ক্রিকেটিং যেকোনো সুযোগ-সুবিধার জন্য আমাদের দুয়ার সবসময় খোলা। আইনগত বিষয়গুলো আমাদের মন্ত্রী (যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী) মহোদয় দেখছেন, তারা নমনীয় হওয়ার কথা বলেছেন। আইনি সমস্যা সমাধান করে তারা ফিরলে আমরা তাদের দুই হাত বাড়িয়ে স্বাগত জানাব।”

বাংলাদেশের হয়ে সর্বশেষ ২০২৪ সালের অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টে খেলেছিলেন সাকিব আল হাসান। এরপর আর জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামেননি তিনি। এর আগে একাধিকবার দেশের মাটিতে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার।

/এসএন