ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা মানেই মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি প্যানিনি স্টিকার অ্যালবাম পূরণের রোমাঞ্চ। তবে ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো বিশ্বকাপকে ঘিরে এবার স্টিকার সংগ্রাহকদের জন্য আসছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও ব্যয়বহুল চ্যালেঞ্জ।
এবার বিশ্বকাপে দল সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮-এ। সেই অনুযায়ী প্যানিনি তাদের সবচেয়ে বড় অ্যালবাম প্রকাশ করেছে, যেখানে রয়েছে ১১২ পৃষ্ঠা এবং মোট ৯৮০টি স্টিকার। এর মধ্যে ৬৮টি থাকবে বিশেষ ‘স্পেশাল’ স্টিকার।
যুক্তরাজ্যে ৭টি স্টিকারের একটি প্যাকেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১.২৫ পাউন্ড। গাণিতিক হিসাব বলছে, কোনো ডুপ্লিকেট ছাড়াই অ্যালবাম পূরণ করতে খরচ হবে অন্তত ১৭৫ পাউন্ড। তবে বাস্তবে ডুপ্লিকেট স্টিকারের কারণে এই খরচ ১ হাজার পাউন্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ থেকে শুরু হওয়া এই স্টিকার সংগ্রহের ঐতিহ্য আজও সমান জনপ্রিয়। সম্প্রতি লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে নতুন অ্যালবাম উন্মোচন অনুষ্ঠানে অংশ নেন সাবেক ইংলিশ তারকা ডেভিড জেমস, জন বার্নস ও গ্যারি কাহিল।
গ্যারি কাহিল বলেন, ছোটবেলায় বন্ধুদের সঙ্গে স্টিকার অদলবদল করাই ছিল বিশ্বকাপের আসল আনন্দ। নিজের স্টিকার অ্যালবামে দেখা ছিল গর্বের মুহূর্ত।
প্যানিনি এবারের আয়োজনকে আরও আকর্ষণীয় করতে যুক্তরাজ্যজুড়ে ‘সোয়াপ শপ’ ও স্টিকার অদলবদলের বিশেষ আয়োজন করছে। পাশাপাশি ‘স্টিকার বক্স’ ঘুরে বিনামূল্যে অ্যালবাম ও প্যাকেট জেতার সুযোগও থাকবে।
সংগ্রাহকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় তথ্য হলো, পুরনো স্টিকারের বাজার এখন বেশ মূল্যবান। অতীতে কিছু বিরল প্যানিনি স্টিকার নিলামে লাখো পাউন্ডে বিক্রি হওয়ার নজিরও রয়েছে। ফলে আজকের সাধারণ স্টিকার ভবিষ্যতে হতে পারে দামী সংগ্রহযোগ্য সম্পদ।