পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে সোমবার (২৫ মে)। রোববার দিবাগত রাত থেকেই হজযাত্রীরা তাঁবুর নগরী মিনা অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই যাত্রার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সমাবেশ।
হজযাত্রীদের কণ্ঠে এ সময় উচ্চারিত হচ্ছে তালবিয়ার দোয়া— “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্ক, লা শারিকা লাক।” এর অর্থ, “আমি হাজির, হে আল্লাহ। আমি হাজির, আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সব প্রশংসা, নিয়ামত এবং সাম্রাজ্য তোমারই। তোমার কোনো শরিক নেই।”
হজযাত্রীরা যেন সুষ্ঠুভাবে সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারেন, সেজন্য সৌদি আরব সরকার স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন ব্যবস্থা এবং বহুভাষিক সহায়তাসহ নানা ধরনের সেবা চালু করেছে। পবিত্র স্থানগুলোতে আগামী কয়েক দিনে হাজিদের যে কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে, তার ধাপভিত্তিক বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো।
৮ জিলহজে হজযাত্রীরা মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদ বা পবিত্র কাবা শরিফ থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরের তাঁবুর নগরী মিনায় পৌঁছান। সেখানে তারা দিন ও রাত অতিবাহিত করেন এবং ইবাদত-বন্দেগি ও দোয়ায় সময় কাটান।
৯ জিলহজে হাজিরা মিনা থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আরাফাতের ময়দান-এর উদ্দেশে রওনা হন। আরাফাতের প্রান্তরে অবস্থান করে তারা সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া, ইবাদত ও তওবায় মগ্ন থাকেন। হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতার একটি হলো এই আরাফাতে অবস্থান।
একই দিন সন্ধ্যার পর হাজিরা মিনা ও আরাফাতের মাঝামাঝি অবস্থিত মুজদালিফা-র দিকে যাত্রা করেন। সেখানে রাতযাপন করেন তারা। পাশাপাশি মিনায় জামারাতে শয়তানকে প্রতীকীভাবে পাথর নিক্ষেপের জন্য ছোট ছোট পাথর সংগ্রহ করেন।
১০ জিলহজ ফজরের নামাজ আদায়ের পর হাজিরা মুজদালিফা ত্যাগ করে পুনরায় মিনায় ফিরে যান। সেখানে জামারাত আল-আকাবা বা বড় শয়তানের উদ্দেশে প্রথম পাথর নিক্ষেপ করেন তারা।
এরপর ১০ থেকে ১২ জিলহজের মধ্যে হাজিরা আবার মক্কায় ফিরে এসে পবিত্র কাবা শরিফে তাওয়াফ আল-ইফাদাহ সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে সাঈ করেন।
১১, ১২ ও ১৩ জিলহজ পর্যন্ত হাজিরা মিনায় অবস্থান করে জামারাতের তিনটি স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপ করেন। এই তিনটি স্তম্ভ হলো আল-উলা বা ছোট শয়তান, আল-উস্তা বা মেজ শয়তান এবং আল-আকাবা বা বড় শয়তান। মুজদালিফা থেকে সংগ্রহ করা পাথর দিয়েই তারা এই প্রতীকী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
সবশেষে হাজিরা মক্কায় ফিরে বিদায়ী তাওয়াফ বা তাওয়াফ আল-বিদা সম্পন্ন করেন। এর মাধ্যমেই হজের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। এরপর হাজিরা চাইলে মক্কা ত্যাগ করতে পারেন।
/এসএন