ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র হজের খুতবায় মুসলিম উম্মাহর জন্য শান্তি, ঐক্য, ক্ষমা ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়েছে। খুতবার শুরুতে মহান আল্লাহর প্রশংসা ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করা হয়।
খুতবায় বলা হয়, আল্লাহ তাআলাই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী এবং তিনিই মুসলমানদের ওপর তার পবিত্র ঘরের হজ ফরজ করেছেন। ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে হজকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আল্লাহর প্রশংসা করা হয়। একইসঙ্গে সাক্ষ্য দেওয়া হয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।
মানুষকে তাকওয়া অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে খুতবায় সুরা হজের আয়াত তিলাওয়াত করা হয়। সেখানে কেয়ামতের ভয়াবহতা, আল্লাহর ভয় এবং পরকালের প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বলা হয়, নেক আমল করা এবং পাপাচার থেকে দূরে থাকাই হলো প্রকৃত তাকওয়ার পরিচয়।
খুতবায় জোর দিয়ে বলা হয়, পরকালের সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি হলো তাওহিদের ওপর অবিচল থাকা এবং একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও কাছে সাহায্য প্রার্থনা বা ইবাদত করাকে চরম পথভ্রষ্টতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কোরআনের বিভিন্ন আয়াত উদ্ধৃত করে শিরকের ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়।
এ সময় বলা হয়, প্রকৃত মুমিনদের মূল পরিচয় হলো তাওহিদের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস। নামাজ, জাকাত, রোজা ও হজ ইসলামের মৌলিক স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে মুসলমানদের এসব ইবাদতের প্রতি যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
খুতবায় আল্লাহভীতি, ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়। আল্লাহর নেয়ামতের জন্য শুকরিয়া আদায় এবং বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণের উপদেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি আল্লাহর চিরন্তন বিধান ও ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়।
আল্লাহর পথে চললে তিনি সাহায্য করেন—এমন কোরআনিক বাণী তুলে ধরে জালেম জাতিগুলোর ধ্বংসের উদাহরণ স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। খুতবায় বলা হয়, আল্লাহর অবাধ্যতা ও অন্যায়ের পরিণতি ভয়াবহ।
হজের গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর মাধ্যমে মানুষের কাছে হজের আহ্বানের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে বলা হয়, দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আল্লাহর ঘরে সমবেত হয় তার স্মরণ ও ইবাদতের জন্য।
খুতবায় আরও বলা হয়, হজের বিভিন্ন আমল শেষ করার পর বিদায়ী তাওয়াফের মধ্য দিয়ে হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। মুসলমানদের আল্লাহকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরার আহ্বান জানিয়ে নামাজ কায়েম, জাকাত আদায় এবং দ্বীনের ওপর অবিচল থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
দোয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে খুতবায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস উল্লেখ করা হয়, যেখানে বলা হয়েছে—আরাফার দিনের দোয়াই সর্বোত্তম দোয়া। এ সময় “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর” বেশি বেশি পাঠ করার তাগিদ দেওয়া হয়।
পরে মুসলমানদের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। হাজিদের হজ কবুল, গুনাহ মাফ এবং নিরাপদে নিজ নিজ দেশে ফেরার তাওফিক কামনা করা হয়। একই সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের সংকট দূর করা, সত্যের ওপর মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার অবস্থা কল্যাণময় করার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানানো হয়।
খুতবার শেষাংশে খাদেমুল হারামাইন ওয়াশ-শরিফাইন বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের জন্যও দোয়া করা হয়। হাজিদের সেবায় তাদের ভূমিকার প্রশংসা করে তাদের দুনিয়া ও আখেরাতে উত্তম প্রতিদান কামনা করা হয়।
সবশেষে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.), তার পরিবার ও সাহাবিদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষণের দোয়ার মাধ্যমে খুতবা শেষ করা হয়।