সৌদির কিং সুলতান এয়ারবেসে আমেরিকার হালকা ক্ষতিগ্রস্ত একটি যুদ্ধবিমান বা রাডার স্টেশনের ছবি। এটি কোনো Ai তৈরি করেনি—এটি আসল ছবি, যা বিশ্বের সব বড় বড় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। গত ২৮ মার্চ ইরানের মিসাইল হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমেরিকার এই স্পেশাল বিমান যা যুদ্ধক্ষেত্রের মস্তিষ্ক বলে পরিচিত।
এটি হলো বোয়িং E-3 Sentry— বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম। সংক্ষেপে AWACS নামে পরিচিত, যুদ্ধে আকাশের চোখ ও কমান্ড সেন্টার।
এটি দেখতে সাধারণ যাত্রীবাহী বিমানের মতো হলেও আসলে এটি একটি উড়ন্ত রাডার স্টেশন। সামরিক দুনিয়ায় এটি ‘অ্যাওয়াকস’ বা ‘আকাশের চোখ’ নামেই বেশি পরিচিত।
সত্তর দশকের মাঝামাঝি সময়ে আমেরিকান বিমান বাহিনী এমন এক শক্তিশালী প্রযুক্তির প্রয়োজন অনুভব করেছিল, যা শত শত মাইল দূরের শত্রু বিমান বা মিসাইল আগেভাগেই ধরে ফেলবে। সেই ভাবনা থেকেই বোয়িং ৭০৭ বিমানের কাঠামো ব্যবহার করে, এই বিশেষ আকাশযানটি তৈরি করা হয়, যা ১৯৭৭ সাল থেকে আকাশপথের পাহারাদার হিসেবে কাজ করছে।
১৯৯২ সাল পর্যন্ত মোট ৬৮টি তৈরি করা হয়েছে।

এটার উপরে যেই কালো থালার মত দেখতে পাচ্ছেন, এটাই বিখ্যাত রোটোডোম— এর ব্যাস ৩০ ফুট, উচ্চতা ৬ ফুট, ফিউজেলেজের ১১ ফুট উপরে ঘুরছে। এর ভিতরে রয়েছে অত্যাধুনিক পালস-ডপলার রাডার, যা ৪০০ কিলোমিটারের বেশি দূর থেকে শত শত লক্ষ্যবস্তু একসাথে শনাক্ত করতে পারে — নিচু উচ্চতার ড্রোন ও ক্রোজ মিসাইল থেকে শুরু করে, উঁচুতে উড়ন্ত ব্যালেস্টিক মিসাইল ও ফাইটার জেট পর্যন্ত ডিটেক্ট করতে সক্ষম।
এই দানবীয় বিমানটি ঘণ্টায় প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে, এবং মাঝ-আকাশে জ্বালানি ভরে এটি একটানা দীর্ঘ সময় আকাশে থাকতে সক্ষম। আর রিফুয়েলিং ছাড়া’ই প্রায় ৪,০০০ নটিক্যাল মাইলেরও বেশি উড়তে সক্ষম।
ভেতরে চারজন ফ্লাইট ক্রু ও ১৩-১৯ জন মিশন বিশেষজ্ঞ—মোট ১৭ থেকে ২৩ জনের একটি দল কাজ করে। তারা আকাশ থেকে নিচের ট্যাংক, সমুদ্রের জাহাজ আর ওপরের যুদ্ধবিমানগুলোকে নির্দেশ দেয় কোথায় আক্রমণ করতে হবে, বা কোন দিক থেকে বিপদ আসছে। সহজ কথায়, এটি যুদ্ধের ময়দানে ‘মস্তিষ্ক’ বা কমান্ড সেন্টারের মতো কাজ করে।
এই বিমান শুধু আমেরিকা নয় — ন্যাটো, ফ্রান্স, সৌদি আরব, ব্রিটেনসহ অনেক দেশের সার্ভিসে আছে।
ইরাকের যুদ্ধেও এই অ্যাওয়াকস ছিল ন্যাটোর আকাশের অদৃশ্য অভিভাবক।
ইউএস এয়ার ফোর্সের কাছে মাত্র ৩১টি E-3 সেন্ট্রি ছিলো। পুরনো হয়ে যাওয়ার কারণে অনেকগুলোকে অবসরে পাঠানো হয়েছে, আর ইউএস এয়ারফোর্স এখন ধীরে ধীরে এগুলো বাদ দিয়ে E-7 Wedgetail দিয়ে রিপ্লেস করছে। বর্তমানে মাত্র ১৬ টা E-3 সেন্ট্রি আছে আমেরিকার হাতে।
একটা E-3 সেন্ট্রির দাম ১৯৯৮ সালের ডলারের মান অনুযায়ী ২৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমান ডলারের মান অনুযায়ী এর দাম প্রায় দ্বিগুণ এর কাছাকাছি। শুধু অত্যাধুনিক রাডার, কম্পিউটার আর ইলেকট্রনিক্সের জন্যই এত খরচ! এর আপগ্রেড এবং রক্ষণাবেক্ষণও অত্যন্ত ব্যয়বহুল।