• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৬ পিএম


লাল সংকেত দেখেও গতি বাড়িয়েছিলেন চালক, লন্ডনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার নতুন তথ্য

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১ অক্টোবর ২০২৬ ৯:১৯ পিএম

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পেছনে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। লাল সংকেত (রেড সিগন্যাল) দেখে সতর্কবার্তার স্বীকৃতি দেওয়ার পরও ট্রেনের গতি কমানোর পরিবর্তে তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন চালক। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের ট্রেন দুর্ঘটনা তদন্ত শাখা (আরএআইবি) প্রকাশিত প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত ১৯ জুন লন্ডনের উত্তরে বেডফোর্ডশায়ারের এলস্টো এলাকায় ইস্ট মিডল্যান্ডস রেলওয়ের (ইএমআর) দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে। এতে করবি থেকে লন্ডন সেন্ট প্যানক্রাসগামী ট্রেনের চালক শন বার্টন (৬০) নিহত হন। দুর্ঘটনায় ১০২ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। সংঘর্ষের ফলে উভয় ট্রেনের একাধিক বগি লাইনচ্যুত হয়। ঘটনার সময় দুটি ট্রেনে প্রায় ২৫৭ জন যাত্রী ছিলেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চালক শন বার্টন সংকেত পাওয়ার পরও ট্রেনের গতি কমাননি। বরং তিনি ট্রেনের গতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭৬ মাইল বা প্রায় ১২২ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়িয়ে নেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, থেমে থাকা অপর ট্রেনটির মাত্র ২০০ মিটার দূরে পৌঁছানোর পর তিনি জরুরি ব্রেক প্রয়োগ করেন। তখন সংঘর্ষের আর মাত্র প্রায় ১০ সেকেন্ড বাকি ছিল। ফলে শেষ মুহূর্তে ব্রেক প্রয়োগ করেও দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়নি। ঘণ্টায় প্রায় ৭৫ মাইল বা ১২১ কিলোমিটার গতিতে পেছন থেকে অন্য ট্রেনটিতে সজোরে ধাক্কা মারে ট্রেনটি।

তদন্তে আরও জানা গেছে, সামনে থাকা নটিংহাম থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি স্বয়ংক্রিয় সতর্কীকরণ ব্যবস্থা বা অটোমেটিক ওয়ার্নিং সিস্টেমের (এডব্লিউএস) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারিগরি ত্রুটির কারণে লাইনে হঠাৎ থেমে যায়। এর ফলে পেছনের সিগন্যালটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল হয়ে যায়।

তবে অভিজ্ঞ চালক শন বার্টন লাল সংকেত দেখার পরও কেন ট্রেনের গতি বাড়িয়েছিলেন, সেটি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ট্রেনটির স্বয়ংক্রিয় ব্রেকিং ব্যবস্থা এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্ঘটনার সময় সঠিকভাবে কাজ করছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।

ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দুর্ঘটনার আগে ট্রেনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো কীভাবে কাজ করেছিল, তা নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

/এএসএফ