• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম


সেপ্টেম্বর মাসের বেতন নতুন পে স্কেলে পাচ্ছেন না সরকারি চাকরিজীবীরা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১ অক্টোবর ২০২৬ ৯:৪৫ পিএম

আজ ১ অক্টোবর। মাসের শুরুতে সরকারি চাকরিজীবীদের অনেকেই মোবাইল ফোনে ব্যাংকের মেসেজের অপেক্ষায় থাকেন। তবে এবার সেই অপেক্ষার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন পে স্কেলের বর্ধিত বেতন পাওয়ার বিষয়টি। দীর্ঘদিন পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে স্কেল ঘোষণা হওয়ায় বাড়তি বেতনের মেসেজের অপেক্ষায় রয়েছেন লাখো কর্মচারী।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতন কাঠামোতে বাড়তি মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে পাবেন।

অর্থাৎ প্রজ্ঞাপন সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত হলেও নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকারিতা ধরা হয়েছে গত জুলাই থেকে। এ কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে কোন মাস থেকে বাড়তি বেতন পাওয়া যাবে এবং জুলাই থেকে বকেয়া অর্থ কীভাবে দেওয়া হবে—এসব বিষয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সেপ্টেম্বর মাসের বেতনের সঙ্গে নতুন পে স্কেলের বর্ধিত বেতন যুক্ত হচ্ছে না। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের বেতনে বাড়তি অর্থ পাচ্ছেন না সরকারি চাকরিজীবীরা। তবে অক্টোবরের বেতন নতুন পে স্কেল অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে, যা নভেম্বরের শুরুতে পাওয়ার কথা।

অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, নতুন পে স্কেলের বাড়তি বেতন হাতে পাওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সঠিকভাবে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা।

কোনো তথ্য ভুল, অসম্পূর্ণ কিংবা পুরোনো রেকর্ডের সঙ্গে অসংগত হলে পে-ফিক্সেশনের প্রক্রিয়া আটকে যেতে পারে। এ কারণে ইতোমধ্যে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের অনলাইন প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। বিভাগওয়ারি ৫ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তিন মাসের বকেয়া একসঙ্গে

নতুন পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পর সরকারি চাকরিজীবীদের আগ্রহের অন্যতম বিষয় হলো বর্ধিত বেতন ও বকেয়া অর্থ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পে-ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর হিসাব অনুযায়ী প্রায় তিন মাসের এরিয়ার বা বকেয়া একসঙ্গে দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

তবে প্রত্যেক চাকরিজীবীর বকেয়ার পরিমাণ সমান হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর গ্রেড, মূল বেতন, নতুন পে স্কেলে নির্ধারিত বেতন এবং কার্যকর তারিখের ভিত্তিতে বকেয়া অর্থ হিসাব করা হবে।

কোনো চাকরিজীবীর তথ্য অনলাইনে দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সহায়তা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে যা ছিল

নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতন কাঠামোতে বাড়তি মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে পাবেন। এই অর্থ গত ৩০ জুন আহরিত বা প্রাপ্য বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে।

এরপর ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতন কাঠামোতে বাড়তি মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৭৫ শতাংশ হারে পাবেন।

২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামোর বেতন বৃদ্ধির শতভাগ কার্যকর হবে।

যেহেতু নতুন বেতন কাঠামো গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে, তাই ওই সময় থেকে প্রাপ্য বকেয়া বেতনও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পাবেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন বেতন কাঠামোর অন্যান্য সব ভাতা পাওয়া শুরু করবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একইভাবে পেনশন সুবিধাভোগীরাও নতুন বেতন কাঠামোর যাবতীয় সুবিধা পাবেন।

নতুন বেতন কাঠামোতে ১ম থেকে ১০ম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। অন্যদিকে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। এর সঙ্গে আনুপাতিক হারে বিভিন্ন ধরনের ভাতাও বাড়বে।

/এএসএফ