মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রবাসী কর্মীদের ন্যূনতম বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। বর্তমানে শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫১ হাজার টাকা। এই বেতন বাড়িয়ে ২ হাজার রিঙ্গিত বা প্রায় ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব বিবেচনা করছে মালয়েশিয়া সরকার।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জোহর রাজ্যের ক্লুয়াং জেলা পুলিশ সদর দপ্তর (আইপিডি) কোয়ার্টার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দেশটির অর্থমন্ত্রী আকমল নাসরুল্লাহ মোহাম্মদ নাসির।
তবে ন্যূনতম বেতন বাড়ানোর বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার।
অর্থমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। ফলে বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এমনভাবে বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার, যাতে শ্রমিক ও নিয়োগকর্তা—উভয় পক্ষের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে।
আকমল নাসরুল্লাহ বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন দিক বিবেচনা করছি এবং বাস্তবায়নের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য আনা যায়, তা খতিয়ে দেখছি। যাতে একদিকে আমরা আমাদের কর্মীদের দেখভাল অব্যাহত রাখতে পারি, অন্যদিকে নিয়োগকর্তাদের, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও এমএসএমইগুলোর স্থায়িত্বও নিশ্চিত করতে পারি।’
তিনি আরও বলেন, ন্যূনতম মজুরিতে যেকোনো ধরনের সমন্বয়ের বিষয় বিবেচনার সময় সরকার নিয়োগকর্তাদের বিভিন্ন অংশের বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ২ হাজার রিঙ্গিত করার সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ২০২৭ সালের বাজেট পেশের সময় দেওয়ার জন্য ছেড়ে দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।
প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে ন্যূনতম বেতনে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের আয়ও বাড়তে পারে। তবে কোন খাতে, কোন ধরনের শ্রমিকের জন্য এবং ঠিক কবে থেকে নতুন বেতনহার কার্যকর হবে, তা চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
এদিকে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী রামানান রামাকৃষ্ণান জানিয়েছেন, ২ হাজার, ২ হাজার ১০০ কিংবা ২ হাজার ২০০ রিঙ্গিত—কোনো অঙ্কই এখনো অনুমোদিত হয়নি।
ফলে মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন শেষ পর্যন্ত কত নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
/এসএন