• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫১ এএম


নিজের অস্ত্রেই কুপোকাত মোদি, অনলাইন-অফলাইন লড়াইয়ে তরুণদের জয়জয়কার!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৪ জুলাই ২০২৬ ৩:২৩ পিএম

ভারতে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা (নিট)–এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন অন্যতম প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। যে সোশ্যাল মিডিয়াকে রাজনৈতিক উত্থানের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, এখন সেই প্ল্যাটফর্মেই তার সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন দেশটির তরুণরা।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২০ জুলাই নয়াদিল্লিতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও অন্যান্য দমনমূলক পদক্ষেপের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এসব ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়ে দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।

১৮ বছর বয়সী আন্দোলনকারী অবন্তিকা সিং আল জাজিরাকে বলেন, আন্দোলনের প্রতিটি মুহূর্ত তারা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। তার ভাষায়, এখন পুরো দেশ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের দৃশ্য দেখতে পাচ্ছে এবং আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানাচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ অস্বীকার করা হলেও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের বিভিন্ন দৃশ্য উঠে এসেছে। এসব ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, পাটনা, লখনউ ও আইজলসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ কর্মসূচি বিস্তৃত হয়।

বর্তমানে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামের একটি চাপ সৃষ্টিকারী সংগঠনের নেতৃত্বে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনের পাশাপাশি ব্যঙ্গচিত্র, মিম এবং বিদ্রূপাত্মক পোস্টও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক তরুণ মার্ভেল চরিত্র কিংবা জাপানি অ্যানিমের প্রতীক ব্যবহার করে প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছেন। তাদের দাবি, সরকার যুবসমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৪ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে রাজনৈতিক প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। তবে বর্তমানে সেই একই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সরকারবিরোধী প্রতিবাদ সংগঠিত করার অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

চাপের মুখে গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের জন্য দ্রুত বিচার আদালত গঠন করা হয়েছে। তবে তার এই ঘোষণার পরও আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিতে অনড় রয়েছেন এবং সামাজিক মাধ্যমে সরকারের সমালোচনা অব্যাহত রেখেছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

/এএসএফ