• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম


যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপে পবিত্র কোরআন সংরক্ষণের লড়াই করছেন গাজার রাফাত জাবের!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৪ জুলাই ২০২৬ ১২:৪৯ পিএম

ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপের মাঝেও চলছে এক ভিন্ন ধরনের মানবিক ও ধর্মীয় উদ্যোগ। আগুনে পোড়া ও ছিন্নভিন্ন পবিত্র কোরআনের কপিগুলো যত্নসহকারে মেরামত করে সেগুলো আবার মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে তুলছেন ষাটোর্ধ্ব আলহাজ রাফাত জাবের।

শহরের একটি ফুটপাতে বসেই তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া কোরআনের কপিগুলো মেরামতের কাজ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত কোরআন তার কাছে নিয়ে এলে সাধারণ আঠা ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি ছেঁড়া পাতা জোড়া লাগান এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রচ্ছদ নতুন করে বাঁধাই করেন।

যুদ্ধের কারণে গাজায় নতুন কোরআনের কপি পৌঁছানো প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে উদ্ধার হওয়া ক্ষতিগ্রস্ত কোরআনই এখন অনেক মানুষের জন্য একমাত্র ভরসা। এমন পরিস্থিতিতে রাফাত জাবেরের এই উদ্যোগ শুধু বই মেরামতের কাজ নয়, বরং ধর্মীয় ঐতিহ্য ও বিশ্বাস রক্ষার এক নীরব সংগ্রামে পরিণত হয়েছে।

রাফাত জাবের জানান, প্রয়োজনীয় উপকরণের সংকট থাকায় তিনি প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয়টির বেশি কোরআনের কপি মেরামত করতে পারেন না। তবুও তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সামান্য অবদানও অত্যন্ত মূল্যবান।

প্রায় ৩০ বছর ধরে বই বাঁধাইয়ের কাজ করছেন রাফাত জাবের। যুদ্ধের আগে গাজার একটি বাজারে তার নিজস্ব দোকান ছিল। তবে সংঘাতে সেই জীবিকা হারানোর পর এখন খোলা আকাশের নিচে সীমিত উপকরণ নিয়েই তিনি একই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

রাফাত জাবেরের ভাষায়, সব প্রতিকূলতার মধ্যেও আল্লাহর কালামের খিদমত করার সুযোগই তাকে শক্তি ও প্রেরণা জোগায়। সেই বিশ্বাস নিয়েই তিনি ধ্বংসস্তূপের মাঝেও গাজার মানুষের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও আশা-ভরসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সংরক্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

/এএসএফ