ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত একটি কারাগারে হামাস সদস্যদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ বন্দিশালার চারপাশে কুমির রাখার উদ্দেশ্যে পরিখা বা খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট মনিটর।
কারাগারটি যে এলাকায় অবস্থিত, সেই রামাত নেগেভ আঞ্চলিক কাউন্সিলের এক স্থানীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রায় ১৭০ মিটার দীর্ঘ এই পরিখা কেতজিওত কারাগারের ভেতরের একটি উইংয়ে খনন করা হচ্ছে, যা বাইরে থেকে দেখা যায় না। ইসরায়েলের পরিবেশ সুরক্ষা মন্ত্রী ইদিত সিলমান নীল নদের কুমিরকে গৃহপালিত বন্যপ্রাণী হিসেবে নতুন শ্রেণিভুক্ত করার পরই এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথ তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের দপ্তর জানিয়েছে, এটি একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু করা হয়েছে। দপ্তরের দাবি, যারা বিষয়টিকে কেবল একটি সস্তা প্রচারণা বলে মনে করেছিলেন, তারা ভুল প্রমাণিত হয়েছেন। পরিখা নির্মাণ এবং কুমিরের পরিচর্যার জন্য ২১ মিলিয়ন শেকেল, অর্থাৎ প্রায় ৬ দশমিক ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ প্রকল্প পরিচালনার জন্য কারা কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।
তবে ইসরায়েলের প্রকৃতি ও উদ্যান কর্তৃপক্ষ এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আইনি উপদেষ্টারা এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে তারা জরুরি বৈঠকও ডেকেছেন।
নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত কেতজিওত কারাগারটি ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বন্দিশালা। এখানে গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীর থেকে আটক ফিলিস্তিনিদের রাখা হয়।
ফিলিস্তিনি কারাবন্দী বিষয়ক সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দির সংখ্যা ৮৩ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৬০০ জন অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে বন্দিদের কম্বল ও পর্যাপ্ত খাবার না দেওয়া এবং লোহার পাতের ওপর ঘুমাতে বাধ্য করার মতো কঠোর নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
/এসএন