ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রাজধানী কারাকাসের উত্তরাঞ্চলের লা গুয়াইরা এলাকায় ধসে পড়া একটি বহুতল ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করেছে জর্ডানের সিভিল ডিফেন্সের একটি উদ্ধারকারী দল।
উদ্ধারকারীরা জানান, ভূমিকম্পের প্রায় ১৪৪ ঘণ্টা পর শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া যায়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাকে জীবিত উদ্ধারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই সময়সীমা পেরিয়ে ছয় দিন পর কাউকে জীবিত উদ্ধার করা অত্যন্ত বিরল ঘটনা।
উদ্ধারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে শিশুটিকে বের করে আনতেই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন উদ্ধারকর্মীরা। পরে দ্রুত তাকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে কম্বলে জড়িয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
জর্ডান সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া শিশুটির শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তার জীবনচিহ্ন স্বাভাবিক পাওয়া গেছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।
গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলায় পরপর ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়। শত শত ভবন ধসে পড়ার পাশাপাশি বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।
এমন ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যেও তিন বছর বয়সী এই শিশুর জীবিত উদ্ধার স্থানীয় বাসিন্দা, স্বজন ও উদ্ধারকর্মীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা ছয় দিন বেঁচে থাকার এই ঘটনাকে অনেকেই অলৌকিক বলে অভিহিত করছেন।
সূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম
/এএসএফ