• ঢাকা
  • সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১২ পিএম


জেন জি আন্দোলনে উত্তাল জার্মানি, ফ্রাঙ্কফুর্টে লুটপাট ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১ নভেম্বর ২০২৬ ১২:১৩ পিএম

শিক্ষাব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ানো, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার বিরোধিতাসহ বিভিন্ন দাবিতে জার্মানিজুড়ে আন্দোলনে নেমেছেন জেন জি প্রজন্মের তরুণেরা। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে দেশটির ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দোকানপাটে লুটপাট ও সহিংস সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

জার্মানির আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ফ্রাঙ্কফুর্টের কেন্দ্রস্থলে অন্তত দুটি দোকানে লুটপাট চালানো হয়। এ ছাড়া কয়েকটি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে ককটেল বা মোলোটভ ককটেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ফ্রাঙ্কফুর্ট পুলিশ জানায়, ‘সহিংস বিশৃঙ্খলা অব্যাহত রয়েছে। শহরের কেন্দ্রস্থলে বেশ কয়েকটি দোকানের জানালা ভেঙে ফেলা হয়েছে। জরুরি সেবা প্রদানকারীদের লক্ষ্য করে মোলোটভ ককটেলও নিক্ষেপ করা হচ্ছে। আমরা পথচারীদের শহরের কেন্দ্রস্থল এড়িয়ে যেতে বা এলাকা ত্যাগ করার জন্য অনুরোধ করছি।’

আন্দোলনের আয়োজকদের পূর্বাভাসে এক লাখ ৮২ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছিল। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ ও বার্লিনে সব মিলিয়ে প্রায় ১৮ হাজার বিক্ষোভকারী অংশ নেন। যদিও আয়োজকদের ওয়েবসাইটে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৩৬ হাজার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হ্যালোইন উৎসবের দিন আয়োজিত এই কর্মসূচিতে হামবুর্গ শহরের কয়েকটি স্থানেও ব্যারিকেডে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

বার্লিনে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন জেন জি রেজেল্ট সংগঠনের মুখপাত্র লিনা ফ্রিডরিখ। তিনি বলেন, ‘আমরা আজ এখানে যুদ্ধ ও বাধ্যবাধকতার বদলে শান্তি ও স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে এসেছি।’

আন্দোলনের প্রধান দাবিগুলো তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থার জন্য আরও ভালো সহায়তা প্রদান। আমরা বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার বিরুদ্ধে এবং বোঝার আরও ন্যায্য বণ্টনের পক্ষে।’

এদিকে জার্মানির হেসি রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পসেক বিক্ষোভে সহিংসতার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। ফ্রান্সের পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘ফ্রান্সের লুটপাট, বাড়িঘর ও পুলিশের গাড়িতে আগুন এবং কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ছবিগুলো আমাদের সবার মনে আছে। এ ক্ষেত্রে ফ্রান্সকে কোনো মডেল হিসেবে তুলে ধরা যাবে না।’

উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় বার্লিনের অভিজাত কুর্ফুর্স্টেনডাম শপিং অ্যাভিনিউসহ বিভিন্ন শহরের একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তাদের দোকানের সামনের অংশ কাঠের তক্তা দিয়ে ঢেকে দেয়।

মিউনিখের সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী স্টিভ চ্যান্সেলরের। তিনি জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘সরকার আমাদের উদ্বেগের বিপরীতে ক্রমাগত ছাঁটাই এবং আমাদের ওপর আরও বোঝা চাপানো ছাড়া আর কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। আপনারা আমাদের উপেক্ষা করা বন্ধ না করা পর্যন্ত আমরা একত্রিত হওয়ার মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করে যাব।’

অন্যদিকে, বার্লিন টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী শন বেকার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আপনি যখন ভেতরে যাবেন এবং ঘরগুলোতে প্রবেশ করবেন, তখন এটি একটি পরিত্যক্ত ভবনের মতো দেখায়। তবুও এখানে আমাদের নিয়মিত পড়াশোনা করার আশা করা হয়।’

জার্মানির জাতীয় শিক্ষার্থী সংগঠন বিএসকে এই আন্দোলন থেকে নিজেদের দূরে রেখেছে। সংগঠনটি আগামী ২০ নভেম্বর পৃথক আন্দোলন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, সার্বিয়া ও ফ্রান্সে জেন জি নেতৃত্বাধীন সাম্প্রতিক গণবিক্ষোভের পর ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতি জার্মানিতেও একই ধরনের ছাত্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

/এসএন